Friday, May 31, 2019

বিগিনার কার্টুনিস্ট/আর্টিস্টদের জন্য দেশি পত্রিকায়/ম্যাগাজিনে ফ্রিল্যান্স কাজঃ ০১

প্রথমে ভেবেছিলাম একটা ব্লগপোস্ট লিখে ফেলি কিভাবে দেশি পত্রিকার ফিচার পাতায় বা ম্যাগাজিনে কাজ করার স্কোপ পাওয়া যায়। কিন্তু লিখা শুরু করার পর বুঝতে পারলাম "কেন একজন কার্টুনিস্ট/ইলাস্ট্রেটরকে নিজের আঁকা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরেও মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হবে" তা নিয়ে একটা সূচনা থাকা দরকার মূল প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে। সেই সূচনা লিখতে গিয়ে সেটার সাথে বিশাল এক রচনাও লিখে ফেললাম। কেউ যদি সূচনা পড়ার পর রচনা বাদ দিতে চান তবে "অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন" বলে এই লিংকে ক্লিক করে সরাসরি চলে যান এই সিরিজের তিন নাম্বার পোস্টে। আর কারো যদি অসীম ধৈর্য থাকে তবে এই পোস্টের রচনাটাও পড়ে দেখতে পারেন। :3

সূচনাঃ "কেন আঁকি" কেউ যখন এই প্রশ্ন করেন আমাকে তখন আমি উত্তর দেই, "আঁকতে ভাল্লাগে তাই আঁকি!" আমার মতে যারাই আঁকাআঁকি করেন তারা সবাই ভালবেসেই আঁকাআঁকি করেন। ভাল্লাগে বলে আঁকেন। সেটা পোর্ট্রেট, ক্যারিকেচার, কার্টুন, পেইন্টিং, গ্রামের দৃশ্য, বনজঙ্গল, নদী নালা বিল্ডিং, ডুডল যাই হোক। আমরা যারা কার্টুন কমিক্স ইলাস্ট্রেশন এসব আঁকি আমাদের কার্টুন আঁকা শুরু হয় টিভিতে কার্টুন শো দেখে আর বইয়ের পাতায়, পত্রিকায় বা ম্যাগাজিনের কার্টুন, গল্পের ইলাস্ট্রেশন এসব দেখে দেখে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রিয় ক্যারেক্টারদের আঁকতে গিয়ে অথবা প্রিয় শিল্পীদের, কার্টুনিস্টদের আঁকা কপি করতে করতেই একসময় আমরা নিজেদের মত করে আঁকা শুরু করি। আর আঁকতে আঁকতেই মাথায় আসে যদি আমার আঁকা আমি অমুক ম্যাগাজিনে বা তমুক পত্রিকায় দেখতে পেতাম তাইলে বেশ হতো। আমারও মনে হতো এমন। এখনতো ইন্টারনেট আর সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। যোগাযোগ সহজ হয়ে গিয়েছে, জানার শেখার পরিধি বেড়েছে আমাদের। নিজদের প্রতিভা আর সৃষ্টি এক ক্লিকেই পৃথিবীর সামনে তুলে ধরা যায়। লেখকরা লিখেন, লিখেই সে লেখা নিমিষেই ছড়িয়ে দিতে পারেন ভক্তদের মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে। আঁকিয়েরা আঁকেন, এঁকে চিত্রকর্ম পোস্ট করে দিতে পারেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। মুহূর্তেই লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের বন্যা বয়ে যায়। ক্রিয়েটরের ভাল লাগে এই বন্যা দেখে। তিনি আবার লিখতে বসেন অথবা আঁকতে বসেন। আবার পোস্ট করেন। আবার লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের বন্যা। বন্ধুরা লেখককে বলেন "আরে বাহ! দারুন লিখেছিস/লিখেছো/লিখেছেন তো! আঁকিয়েকে বলেন "আরে বাহ! দারুন এঁকেছিস/এঁকেছ/এঁকেছেন তো! যত রেসপন্স তত ভাললাগা!
আমরা ভুলে যাই এই রেসপন্স সাময়িক। এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় ট্রেন্ড আর টপিক চেঞ্জ হয়। আপনি আজ যে বিষয়ে লিখছেন বা আঁকছেন সেটা কালকের মধ্যেই আউটডেটেড হয়ে যাচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে আপনি নিজেই ভুলে যাচ্ছেন। এবং প্রতিনিয়ত ট্রেন্ডকে ফলো করতে গিয়ে দেখা যায় অনেক লেখক নিজের যা ভাল লাগে তা নিয়ে আর লিখেননা আর অনেক আঁকিয়ে নিজের জন্য আঁকেননা। পাবলিক ডিমান্ডের কথা ভেবে কাজ করতে করতে আমরা নিজেদের জন্য কাজ করার কথা ভুলে যাই। কারন নিজেদের জন্য কাজ করলে অনেক সময় লাইক, কমেন্ট কম হয়। তার চেয়ে পাবলিক ডিমান্ড ধরা ভাল। একসময় দেখা যায় আমাদের নিজেদের জন্য কিছুই নেই। একসময় যে কাজ করেছিলাম সেসব কাজের কথা লোকে তো ভুলে গেছেই, আমরা নিজেরাও ভুলে গিয়েছি। কারন সে কাজের বিষয় এখন আর ট্রেন্ডে নেই। আরেকটা ব্যাপার আছে। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমের কারনে আপনার কাজ শুধুমাত্র একটা নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির মানুষের নিউজফিডেই পৌঁছাবে। অনেক মানুষ জানবেই না আপনি কে অথবা আপনি কি করেন। আমার গুরু মেহেদী ভাইয়ের সাথে হাঁটতে, চলতে আর তার কাছ থেকে শিখতে গিয়ে আঁকাআঁকি ছাড়াও যা জেনেছি সেটাকে যদি লিখতে যাই তবে এভাবে লিখা যাবে
"মূল ধারার প্রিন্ট মিডিয়ার সুবিধা হলো এই মাধ্যমের আওতাটা অনেক বড়। একটা পত্রিকার জন্য যখন তুমি আঁকছো তখন তুমি অনেক মানুষের জন্য আঁকছো। যদি তোমার আঁকা কোন পত্রিকায় ছাপা হয় তবে সে আঁকা পুরো দেশের কোটি কোটি মানুষ দেখবে। তোমার আলাদা একটা পরিচিতি আসবে। সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরেও লোকজন তোমাকে চিনবে। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে তোমার কাজের একটা ডকুমেন্টেশন থাকবে। সেটা একটা পত্রিকার পাতা হোক বা হোক ম্যাগাজিনের পাতা। এভাবে তুমি একদিন জানতে পারবা প্রিন্ট মিডিয়ার জন্য কিভাবে কোন স্টাইলে কি ধরনের কালার নিয়ে কাজ করলে সুবিধা বা দেখতে ভাল দেখায়। তোমার কাজ পত্রিকায় বা ম্যাগাজিনে ছাপা হলে ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত লোকজন তোমার কাজ দেখবে আর ইলাস্ট্রেটর বা কার্টুনিস্ট হিসেবে দেশি ইন্ডাস্ট্রিতে লোকে তোমাকে চিনতে শুরু করবে। হয়তোবা এই পরিচিতির জোর ধরেই কোন বইয়ের প্রকাশকের কাছ থেকে ডাক পাবে বইয়ের ইলাস্ট্রেশন করার জন্য। একজন মানুষ যদি আঁকিয়ে বা লেখক হয় তবে তার কাজের একটা ডকুমেন্টেশন থাকা উচিত। এবং লেখক বা আঁকিয়ের জন্য বইয়ের চাইতে ভাল ডকুমেন্ট আর হয়না।"
আসলেই তাই। শত শত বছর ধরে বই থেকে যাবে। কেউ আপনার বইটা কিনলে সে বই তার বুক শেলফে থাকবে। তার বাসায় কেউ বেড়াতে আসলে সে বই তার চোখে পড়বে।সে লোক হতে পারে আপনার একজন পটেনশিয়াল ভক্ত অথবা ক্লায়েন্ট। এখানে অন্যের জন্য ম্যাগাজিন, বই বা কমিক্সের কাজ করতে করতে একদিন দেখবেন আপনার নিজের জন্যই নিজের মতো করে একটা কিছু করার সাহস আর কনফিডেন্স পাচ্ছেন।

বাইরের দেশের বড় বড় আর্টিস্ট/কার্টুনিস্ট/ওয়েবকমিক আর্টিস্টদের খেয়াল করলে দেখতে পাবেন তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ বিখ্যাত। ইউটিউবে, ইন্সটাগ্রামে, ওয়েবকমিক্সের সাইটে তাদের মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার। বিশাল অনলাইন এক্সপোজারের কারনে তাদের অনেকে চেনেন এবং তারা কাজ করে সময় পান না। অনেকেই ডিজনি, ড্রিমওয়ার্কস, পিক্সারের মতো বড় বড় অ্যানিমেশন ফার্মে জব করেন। এরপরেও তাদের দেখবেন নিজেদের বই পাবলিশ করার একটা চেষ্টা থাকে। কোন পাবলিশার না পেলে তারা নিজেরাই কিকস্টারটার বা বিভিন্ন ফান্ড রেইজিং কোম্পানির মাধ্যমে ফান্ড রেইজ করে নিজেদের বই পাবলিশ করেন। ব্যাপারটা আর কিছুই না। নিজের কাজের একটা সলিড ডকুমেন্টেশন। তারা কাজ করছে অন্যের জন্য, একটা অ্যানিমেশন ফার্মের জন্য। কাজটা তাদের নিজেদের নয়। কাজের মালিক হচ্ছে কোম্পানি বা একজন ক্লায়েন্ট। তারা বড়জোর বলতে পারেন অমুক মুভিতে তমুক অংশের কাজটা আমার করা। যার কারনে তারা সবসময়ই চেষ্টা করেন নিজের জন্য বই পাবলিশ করার।

আপনি যদি একটা বিষয় নিয়ে আঁকেন লিখেন তবে সেটা আপনার একটা প্রজেক্ট। আর আপনি যদি সেই প্রজেক্ট পাবলিশ করতে পারেন তবে সেটা একটা প্রোডাক্ট। লোকে আপনার মুখে মুখে বলা প্রজেক্ট চায়না তারা একটা প্রোডাক্ট চায়। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার নিজেদের লেখা আঁকা শেয়ার করার পাশাপাশি আমাদেরকে মেনস্ট্রিম মিডিয়ার কথাও মাথায় রাখতে হবে। চেষ্টা করতে হবে নিজদের কাজের যেন একটা সলিড হার্ডকপি থাকে। যেটা আমি কাওকে দেখাতে পারবো আর বলতে পারবো এইতো আমার কাজ। আমি কিন্তু এখানে সোশ্যাল মিডিয়ার বিপক্ষে কিছু বলছিনা। সোশ্যাল মিডিয়াকে আমাদের পক্ষে রাখতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়াকে আমাদের ব্যবহার করতে হবে অস্ত্র হিসেবে। যাতে আমাদের সাপোর্ট গ্রুপকে (ভক্ত, ফ্যান, এসি, ফ্রিজ) আমরা জানাতে পারি আমরা কি নিয়ে কাজ করছি, কিভাবে কাজ করছি। সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে আমরা আমাদের কাজ মানুষের কাছে পৌঁছাব। আর সে মানুষরাই আমাদের বই/সৃষ্টি কালেক্ট করে আমাদের সাপোর্ট করবে। আপনার এক লক্ষ ফ্যান ফলোয়ারের মধ্যে যদি এক হাজার জন মানুষ আপনার বই সংগ্রহ করে তবে সেটাই সার্থকতা। সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের তৈরি। তাই সোশ্যাল মিডিয়াকে আমরা ব্যবহার করবো, সোশ্যাল মিডিয়া যদি আমাদের ব্যবহার করা শুরু করে তবে সমস্যা!

রচনাঃ  এই রচনা পড়ে আপনি জানতে পারবেন কিভাবে আমি শখের আঁকিয়ে থেকে প্রফেশনালি আঁকাআঁকি শুরু করেছিলাম। ২০০৬-৭ সালের কথা।  প্রথম আলোর সাথে "আলপিন' ম্যাগাজিন দেওয়া হতো। আলপিনে মানিক-রতন ভাইদের কার্টুন, মেহেদী হক সহ অন্যান্য বড় বড় কার্টুনিস্টদের আঁকা কার্টুন দেখতাম আর কপি করতাম বসে বসে। আর ভাবতাম এতো সুন্দর করে কিভাবে আঁকে! কিভাবে আলপিনে আঁকা যায়। এরপর আলপিন বন্ধ হয়ে গেলো। রস+আলো চালু হল, যুগান্তর পত্রিকার সাথে দেওয়া হতো 'বিচ্ছু' । এসব ম্যাগাজিনে ছাপা হওয়া কার্টুনগুলি দেখতাম আর হাহুতাশ করতাম এরকম ভাল আঁকতে পারিনা বলে। মনের কোনে একটু আশা জাগতো একটু ভাল আঁকতে পারলে হয়তো আমিও আঁকতে পারতাম এইসব ম্যাগাজিনে। আর কপি করতাম বসে বসে এখান ওখান থেকে দেখে কার্টুনগুলি। তখন এখনকার মতো ইন্টারনেটের সুদিন ছিলনা। পড়ালেখার সুবাদে থাকতাম কাপ্তাইয়ে। কারো সাথে যোগাযোগ করা হয়ে উঠেনি। পত্রিকার সাথে পাওয়া ম্যাগাজিনই ছিল ভরসা।

এরমাঝে প্রায় এক বছর আঁকাআঁকি করিনি। ভার্সিটিতে ভর্তি হলাম ২০১১ সালে। আমাদের প্রথম সেমিস্টারে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং ছিল সাবজেক্ট হিসেবে। সেই ড্রয়িং করতে গিয়ে কার্টুন আঁকার ব্যাপারটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রোগ্রামে এখানেওখানে আলপনা আর  চিকা মেরে বেড়াতাম আমরা কয়েকজনে মিলে। আর তখন সোশ্যাল মিডিয়ার গণজাগরণ শুরু হয়েছে। ইন্টারনেট এভেইলেবল। ফেসবুকে প্রিয় কার্টুনিস্ট আর্টিস্টদের ফলো করি। তাদের কাজ দেখি, কিভাবে করেন জিজ্ঞেস করলেই জানা যায় তাদের কাছ থেকে প্রায় সময়, তাদের কাজের প্রসেস দেন অনেকেই ব্লগে, ইউটিউবে, ফেসবুক পেইজে। আর গুগল তো আছেই। ক্লিক করেই জেনে নেওয়া যায় অনেক কিছু। আমি আবার কার্টুন আঁকা শুরু করলাম ২০১২-১৩ থেকে। প্রিয় শিল্পীদের কাজ, রস+আলো, উন্মাদ ম্যাগাজিনের কার্টুন কপি করতাম। নিজের থেকে ফ্যান আর্ট করতাম প্রিয় ক্যারেক্টারগুলির, আঁকতাম যা খুশি। এঁকে আকান্তিস গ্রুপে পোস্ট করতাম আর হেল্প পেলাম গ্রুপে থাকা সিনিয়র জুনিয়র সব প্রিয় শিল্পির কাছ থেকে। আঁকতাম, গ্রুপে দেখাতাম, ফিডব্যাক + কারেকশন নিতাম। আর ইম্প্রোভ করার চেষ্টা করতাম। ফেসবুকে নিজের ওয়ালে, পেইজে পোস্ট দিতাম আঁকা ছবি। এভাবে আস্তে আস্তে কাজ ডেভেলপ হতে থাকলো।


আমার ২০১৫ এর আঁকা ছবি
মিডিয়ামঃ ডিজিটাল

২০১৫ এর শুরুর দিকের কথা। ফাইনাল ইয়ার চলছে আমাদের তখন। একদিন ফেসবুকের পেইজে একটা টেক্সট পেলাম। এক ভাই টেক্সট দিয়ে জানালেন, ফেসবুকের আকান্তিস গ্রুপে আর আমার পেইজে আমার কাজ দেখে তার ভাল লেগেছে। তিনি ফ্রিল্যান্সে কাজ করেন। তো উনার প্রায় সময় কার্টুন ইলাস্ট্রেশন এসবের প্রয়োজন হয়। উনার সাথে আমি কাজ করবো কিনা। আমি রাজি হয়ে গেলাম আর উনার জন্য আঁকা শুরু করলাম। উনার জন্য একটা কার্টুন আঁকলাম আর সেই কার্টুনের জন্য উনি আমাকে ৫০০ টাকা দিলেন। স্টুডেন্ট লাইফে সেই ৫০০ টাকা আমার কাছে অনেক টাকা মনে হয়েছিল। এরপর উনার জন্য বেশ কিছু কাজ করা হয়েছিল। ২০১৫ এর শেষ দিকে এসে আমার গ্র্যাজুয়েশন শেষ হলো। এবং আঁকাআঁকির ক্ষেত্রে দেখলাম মোটামুটি কিছু একটা একে দাঁড় করাতে পারছি। ছোটখাটো একটা কনফিডেন্স এসে গেলো নিজের মধ্যে যে কেউ আঁকতে দিলে মাস্টারপিস না হোক কিছু একটা মোটামুটি এঁকে দিতে পারবো। ২০১৬ এর বইমেলা শুরুর আগে এক প্রকাশক ফেসবুকে আমার কাজ দেখে নক দিলেন আমাকে। উনার প্রকাশনী থেকে লেখক আনিসুল হক এর একটা চিলড্রেন বুকের জন্য ইলাস্ট্রেশন করি সেবার এবং সেটাই ছিল বইমেলায় আমার প্রথম কাজ।

এর মধ্যে একদিন গুরু মেহেদী হক ভাইয়ের সাথে কথা বলে উন্মাদ ম্যাগাজিনে একটা কার্টুন পাঠালাম। সেটি ছাপাও হলো। কোন প্রিন্ট মিডিয়ায় সেটি ছিল আমার আঁকা প্রথম কার্টুন। ২০১৬ এর মাঝামাঝি এসে একটা টেক্সট পাই ফেসবুকে। কালের কণ্ঠ পত্রিকার ফান সাপ্লিমেন্ট "ঘোড়ার ডিম" এর এডিটর মেহেদী-আল-মাহমুদ ভাই আমাকে নক দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন আমি ঘোড়ার ডিম এ কাজ করতে চাই কিনা। আমি এটাসেটা জেনে নিয়ে রাজি হয়ে গেলাম। কাজ করলাম কয়েকটা ইস্যুতে। তখন থেকেই মেইনস্ট্রিম নিউজ মিডিয়ায় আমার কাজ করা শুরু। আস্তে আস্তে বইয়ের ইলাস্ট্রেশন করার অফার পেলাম।

২০১৬ এর শেষ থেকে ২০১৮ এর শুরু পর্যন্ত দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রায় দেড় বছরের মতো চাকরি করার সুবাদে বেশ বড় একটা কার্টুন আর কভার কার্টুনের পোর্টফলিও হয়ে গেল আমার। বিভিন্ন বই আর কমিক্সে কাজ করলাম বিভিন্ন পাবলিকেশন আর ক্লায়েন্টের জন্য। ২০১৮ এর শুরুতে দৈনিক যুগান্তর ছাড়ার পর কাজ করা হয়েছে রস+আলো, কিশোর আলো আর কিশোর বাংলা ম্যাগাজিনের জন্য। এখনো সময় পেলে করা হয়। অন্যদের জন্য কাজ করার পাশাপাশি ২০১৪ সাল থেকে কাজ করছি নিজের সুপারহিরো ক্যারেক্টার লুঙ্গিম্যান নিয়ে। এ বছরের একুশে বইমেলায় ঢাকা কমিক্স থেকে পাবলিশ হলো লুঙ্গিম্যান কমিক্সের প্রথম সংখ্যা। কাজ করেছি ঢাকা কমিক্স, প্রজেক্ট টিকটালিক, UNHCR, সিসিমপুর, পাঞ্জেরী প্রকাশনী, মাইটি পাঞ্চ স্টুডিও সহ দেশি বিদেশি বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের জন্য। সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে আমার আঁকা স্থান পেল পেপারের, ম্যাগাজিনের আর বইয়ের পাতায় পাতায়। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মেনস্ট্রিম মিডিয়ার ডাক পেতে আমাকে কাজ করতে হয়েছে প্রায় চার বছরের মতো।

এ তো গেলো কিভাবে আমি পত্রিকায় আর বইয়ের জন্য কাজ করা শুরু করেছিলাম সে কাহিনী। এবার সিনিয়র থেকে জুনিয়র আরো বেশ কয়েকজন কার্টুনিস্ট/ইলাস্ট্রেটরের সাথে কথা বলে প্রিন্ট মিডিয়ায় তাদের কাজ শুরুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হবে পরবর্তী পোস্টে।

এই লেখাটি লেখার সময় যে ভিডিও, পডকাস্ট আর ব্লগপোস্টগুলির হেল্প নিয়েছি সেগুলি দেখতে, শুনতে বা পড়তে চাইলে নিচের লিংকগুলি ভিজিট করুন


Friday, April 19, 2019

কিশোর বাংলার জন্য করা কাজ

প্রিয় আর্টিস্ট মামুন ভাই কিশোর বাংলা ম্যাগাজিনে আছেন আর্ট এডিটর হিসেবে। গেল বছর একদিন  ফোনে কল করে বললেন "রোমেল আগামী মাসের কিশোর বাংলার জন্য একটা গল্পের ইলাস্ট্রেশন করে দে।" আমিও করে দিলাম। এরপর থেকে মাঝেমাঝেই উনি কাজ ধরিয়ে দেন। কাজগুলি করে মজা পাই আমি। কিছু প্রিয় কাজ তুলে রাখি ব্লগে।
কিশোর বাংলা - অগাস্ট'১৮ সংখ্যা
কিশোর বাংলা - জানুয়ারি,১৯ সংখ্যা



কিশোর বাংলা - মার্চ,১৯ সংখ্যা
এই কাজটা করে বেশ মজা পেয়েছিলাম

কিশোর বাংলা - এপ্রিল,১৯ সংখ্যা
সাথে মেহেদী ভাইয়ের কাছ থেকে পাওয়া কারেকশন


Wednesday, March 6, 2019

প্রজেক্ট টিকটালিক - খুলনা

গত বছর(২০১৮) এর বইমেলার পরের কথা। মিতু আপু প্রজেক্ট টিকটালিক এর জন্য একটা সাইন্স কমিক্স প্রজেক্টে কাজ করব কিনা জানতে চাইলেন। আমি টিং করে রাজি হয়ে গেলাম।কমিক্সের নাম "জংগলে গণ্ডগোল"। ফান্ডিং ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট এর। এই বই ফ্রি তে বিলানো হবে ঘুরে ঘুরে স্কুলের ছেলেমেয়েদের কাছে ।

কাজ শুরু হয়ে গেলো। বইয়ের থাম্বলিং করে দিলেন মিতুপু আর আমি বসে বসে ড্রয়িং শেষে ইংকিং আর কালারিং করে ফেললাম। কিছু টেকনিক্যাল পেইজের ড্রয়িং করেছেন মিতু আপু। কাজের সাবমিশন ছিল মার্চের ২০ তারিখে কিন্তু মার্চের ১৭-১৮ তে গিয়ে দেখা গেলো মাত্র ইংকিং শেষ হয়েছে। এদিকে ২০ তারিখে আবার আমার সমাবর্তন। আর ৩২ পেইজের কালার বাকি। এগিয়ে এলেন মেহেদী ভাই। এক সেশনেই এই পাবলিক প্রায় দশ পেইজের কালার নামিয়ে দিলেন। আর কভারও মেহেদী ভাইয়ের করা। বাকি কাজ আমি শেষ করলাম বিশ তারিখ রাতে বসে বসে। সারারাত না ঘুমিয়েই কাজ শেষ করে সকালে সম্রাট আর মিথুনের সাথে রওনা হলাম গাজীপুরে ডুয়েটের উদ্দেশ্যে।

এরপর বই বের হল জুলাই মাসে আর মিতু আপু দলবল নিয়ে দেশের পাঁচ বিভাগের (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী,সিলেট ও খুলনা) সিলেক্টেড স্কুলে এই ফ্রি কমিক্স বিলাতে বের হলেন। সিলেটে মিতুপুর সাথে গেলো মাহাতাব আর সালমান।
প্রিন্টেড কমিক্স

চট্টগ্রামের সফরে আমার যাওয়ার কথা ছিল আর মেহেদী ভাইয়ের খুলনায়। কিন্তু একটা বিশেষ(!) কারনে আমার চট্টগ্রামে যাওয়া হলোনা। তাই ঠিক হলো মিতুপুর সাথে আমি যাব খুলনায় আর মেহেদী ভাই গেলেন চট্টগ্রামে।
সেপ্টেম্বরের ১৬ তারিখে মিতু আপুর সাথে গাট্টিবোঁচকা, ব্যানার নিয়ে রওনা হলাম খুলনার পথে। প্রথমে ঢাকা টু যশোর বাই এয়ার। এরপর যশোর এয়ারপোর্ট থেকে বাংলাদেশ বিমানের বাসেই খুলনা।

(আমার প্রথম বিমান ভ্রমন ছিল এটা। অন্যরকম অনুভূতি।
কিজানি হয়তোবা প্রথম বিমানে চড়সি দেখে লাগসিলো ওরকম।)

যশোর পৌঁছুলাম বিকালের দিকে। এরপর বাসে উঠে খুলনার দিকে যাত্রা। লক্করঝক্কর রাস্তায় ঝাঁকি খেতে খেতে খুলনায় পৌঁছুলাম রাতের নটা সাড়ে নটার দিকে। এসি বাস হওয়ায় রক্ষা পেয়েছিলাম। মিতু আপু যেতে যেতেই বললেন আমাদের রিসিভ করতে আসবেন সুবর্না দি। জিজ্ঞেস করলাম কে এই পাবলিক। মিতুপু বললেন আসলেই দেখবা। আমরা খুলনায় রয়েলের মোড়ে নামলাম আর আমাদের রিসিভ করতে আসলেন সুবর্না দি । সাথে দিদির মেয়ে রোদসী। এরপর অটোতে করে সোজা খাওয়াদাওয়ার জন্য যাত্রা। এই যাত্রাপথেই বুঝে গেলাম সুবর্নাদি একখান মজার মানুষ। উনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর। মিতু আপু যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ছিলেন তখন সুবর্নাদি ছিলেন ওখানে কলিগ। পরে তিনি খুলনায় চলে এসেছেন আর মিতু আপু তো চাকরিই ছেড়ে দিয়েছেন ওই সময়ে এসে। অনেকদিন পর মিতু আপুকে পেয়ে অটোতে হিহি হোহো করছেন মিতু আপুর সাথে আর কিছুক্ষণ পর আবিষ্কার করলাম মনে হচ্ছেইনা সুবর্নাদির সাথে আমার আগে কোনদিন দেখা হয় নাই। এতই মিশুক আর দারুন একজন মানুষ।
এইবার আসি খাওয়াদাওয়ার পালায়। আমাদের তখন খিদে পেয়েছে আর সারাদিনের জার্নি তো ছিলই। খুলনার বিখ্যাত চুঁইঝালের তরকারি খাওয়ার ইচ্ছা ছিল অনেকদিন ধরে। সুবর্নাদিকে বললাম চুঁইঝালের তরকারি খাবো। এরপর সোজা জিরো পয়েন্ট। জীবনে প্রথমবারের মতো চুঁইঝালের তরকারি খেয়ে আমি মুগ্ধতায় থ হয়ে গেলাম। এ এক অন্যরকম ঝাল!


এমনিতেই আমি খাদক প্রাণী। বহুল কাঙ্ক্ষিত চুঁইঝালের তরকারি পেয়ে বেশি খেয়ে ফেললাম। খেয়েদেয়ে হোটেলে ফেরার পথে অটোতে আমার নড়াচড়া বন্ধ। হোটেলে চেকইন করে আমি আমার রুম বুঝে নিয়েই দিলাম একটা ঝাক্কাস শাওয়ার। ঝিকঝাক দারুন রুম। শাওয়ার নেওয়া শেষে এটা সেটা সেরে নিয়ে দিলাম ঘুম। পরেরদিন যেতে হবে খুলনা পাইওনিয়ার স্কুলে কমিক্স বিতরণের কাজে।

পরেরদিন ভোরে মিতু আপু কল করে ডেকে দিলো। দুই ভাইবোনে ব্রেকফাস্ট সেরে নিয়ে রেডি হয়েই দিলাম দৌড়। ব্যানার, টিশার্ট এইসব ব্যাগ ব্যাগেজ নিয়ে হাজির হলাম পাইওনিয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে । স্কুলের হেডমিস্ট্রেস আপা আর অন্যান্য শিক্ষকেরা বেশ সাহায্য করেছিলেন। একটা বড় ক্লাসে ক্লাস নাইন টেন এর পিচ্চিদের জড়ো করা হল। এরপর তাদের মধ্যে থেকে কয়েকজনকে ভলান্টিয়ার বানিয়ে তাদের সাথে কথাবার্তা বলা, কমিক্স নিয়ে বিজ্ঞান নিয়ে ছবি আঁকা গল্প করতে করতেই দুপুর গড়িয়ে গেলো। বেশ মিশুক ছিল পিচ্চিগুলি।
পিচ্চিগুলিকে ছবি আঁকতে দিয়েছিলেন মিতুপু

মিতু আপু বুঝাচ্ছেন আমরা কারা, আমরা কি করি।


বই হাতে ছাত্রীরা


(বইয়ের সাথে ছিল নোটপ্যাড, কলম আর ভলান্টিয়ারদের জন্য টিশার্ট।)

স্কুল থেকে বিদায় নিয়ে দুপুরে আবার সুবর্নাদির সাথে খাওয়াদাওয়া। খেয়েদেয়ে হোটেলে ফিরে এলাম আমরা। আবার বের হলাম বিকেলে। যাত্রা সুবর্নাদির মামাবাড়ি বয়ারভাঙ্গা গ্রামে। সে গ্রামের এক স্কুলে বই দেওয়ার কথা বলেছেন সুবর্নাদি। প্রথমে গেলাম খুবিতে(খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে)। ওখান থেকে ল ডিপার্টমেন্টের ডিন স্যার সহ একদল হুল্লোড়ে আর মিশুক ইয়াং লেকচারারের দল (সুবর্নাদির গ্যাং) নিয়ে খুবির একটা মাইক্রোবাসে রওনা দিলাম বয়ারভাঙ্গা গ্রামের পথে। সুবর্নাদির মামাতো ভাইও(নাম ভুলে গেছি দাদাটার) খুবির শিক্ষক। গ্রামে আগেই খবর পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রামে গিয়ে পৌঁছুলাম ঘণ্টাখানেক জার্নির পরেই। যেতে যেতে মনে হচ্ছিলো আমি আমার গ্রামের বাড়ি রাউজানে চলে এসেছি। রাস্তার দুপাশে গাছের সারি। বেশ দারুন একটা পরিবেশ। গ্রামে গিয়ে দেখি মোটামুটি ব্যাপক আয়োজন। স্কুলের গেটে আমাদের রিসিভ করলেন সুবর্নাদির মামা, স্কুলের হেড টিচার, স্কুল কমিটির পুরনো নতুন সদস্যাবৃন্দ আর গ্রামের অনেক গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা।

(বয়ার ভাঙ্গা বিশ্বম্ভর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আমার মনে পড়ছেনা ঠিক এই মুহূর্তে। 
তবে যতটুক মনে পড়ে তার থেকে বলতে পারি, এই স্কুলের জায়গা আর স্কুলের গোড়াপত্তন করেছিলেন সুবর্নাদির দাদু অথবা দাদুর বাবা। এবং গ্রামের সব স্কুলের মধ্যে এই স্কুলেই নাকি প্রথম বিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়েছিল।) 

আমরা সবাই যাব শুনে অনেককেই নাকি খবর দেওয়া হয়েছিল। গ্রাম আর গ্রামের মানুষজনদের দেখে মনে হচ্ছিলো শরৎচন্দ্রের বইয়ের কোন জমিদার তালুকে টাইম ট্রাভেল করে চলে গিয়েছি। এর মধ্যে রটে গিয়েছিল আমাদের সাথে মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার থাকবেন। সবাই খুব উত্তেজিত। শুনে আমাদের কি হাসি। স্কুলের হলঘরে আমাদের বসানো হল। সামনে টিচাররা, গ্রামের গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা আর ছাত্রছাত্রিরা। আমাদের ফুল দিয়ে বরন করে নেওয়া হলো।

সুবর্নাদি  
খুবির ল ডিপার্টমেন্টের ডিন স্যার। 


মিতু আপুর স্পীচ




এরপর ফরমাল প্রোগ্রাম। মিতু আপু সহ একে একে অনেকেই কথা বললেন। আমরা কারা কেন এসেছি, সায়েন্স কমিক্স কি সব বিষয়ে। স্কুলের টিচারদের কথা শুনলাম। এক অন্যরকম অনুভূতি।  আমার পাশে ছিল পুনম, সুমন ভাই সহ খুবির একঝাঁক তরুন শিক্ষকের দল। পুনম কিছুক্ষণ পরপর একটা একটা কথা বলছে আর আমি দাঁতমুখ চেপে হাসছি। এ ধরনে ফরমাল প্রোগ্রামে আমি সাধারণত অভ্যস্ত না। সিরিয়াস অনুষ্ঠানে হাসাহাসি। এক বিটকেলে পরিস্থিতি আমার জন্য। দারুন একটা সময় পার করলাম। প্রোগ্রাম শেষে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন। খেয়েদেয়ে ফেরার পালা। সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফিরে এলাম খুলনা শহরে। সেদিন যে সম্মান পেয়েছিলাম খুলনার বয়ারভাঙ্গা গ্রামে সে স্মৃতি আমার আঁকিয়ে ক্যারিয়ারে এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যাপ্টার হয়ে থাকবে।

(শহরে ফেরার পথে সবচেয়ে আনএক্সপেক্টেড জিনিসটা দেখলাম আমরা। এমু পাখির খামার। দেখে আমরা থ! একি এই জিনিস এখানে কেন। উটপাখি না এমু পাখি এ নিয়ে তর্ক চলল কিছুক্ষণ। পরে কনফার্ম হওয়া গেলো এমু পাখি। এই গ্রামে এই পাখি কে আনলো কেনো আনল সেটা এখনো আমাদের কাছে রহস্যই থেকে গেলো।) 

ফিরে এসে গেলাম খুবি ক্যাম্পাসে। ক্যান্টিনে কোক পুরী চপ দিয়ে নাস্তা আর আড্ডা শেষে আমি আর মিতুপু ফিরলাম হোটেলে। বেশ মজা পেলাম সুবর্নাদির গ্যাং এর সাথে আড্ডা দিয়ে।
(সুবর্নাদির গ্যাং। আরো কয়েকজন আছে। ছবিতে নেই উনারা। দারুন
সব মানুষ। মিশুক হাসিখুশি আর আড্ডাবাজ) 

(খুবি ক্যাম্পাস। সুন্দর ছিমছাম সবুজে ঢাকা ক্যাম্পাস। পছন্দ হয়েছে।)

রাতে বের হলাম আমি আর মিতু আপু। প্রথমে গেলাম সুবর্নাদির বাসায়। ওখান থেকে দিদি আর রোদসী সহ গেলাম চুঁইঝালের তরকারির জন্য বিখ্যাত আব্বাস হোটেলে। ওখানে গিয়ে যথারীতি আমার খাদক সত্বা বের হয়ে এলো। গলা পর্যন্ত খেয়ে দেয়ে অটোতে গা এলিয়ে দিয়ে ফিরে এলাম হোটেলে।


( চুঁইঝালের খাসি। বেশি জোশ খেতে। এখন কোথাও খেতে গেলে অথবা ভাল খাবারের কথা উঠলে আর ওই জায়গায় যদি আমি আর মিতু আপু থাকি তাইলে হইসে। আমরা চুঁইঝালের তরকারির কথা বলি আর হাহুতাশ করি XD)


পরেরদিন যেতে হবে খুলনার আমেরিকান কর্নারের প্রোগ্রামে। সারাদিনের দৌড়াদৌড়িতে ক্লান্ত ছিলাম। হোটেলের বাথটাবে ডুব দিয়ে থাকলাম অনেক্ষন। শাওয়ার নিয়ে টুকিটাকি কাজ সেরে ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা সেরে নিলাম। এরপর রেডি হয়ে জিনিসপত্র নিয়ে মিতুপুর সাথে রওনা হলাম খুলনা আমেরিকান কর্নারের পথে। পৌঁছে আমারিকান কর্নারের কর্মরত আপু ভাইদের সহায়তায় ব্যানার টাঙিয়ে প্রস্তুত হয়ে নিলাম আমরা।









( প্রোগ্রাম শেষে আমার মুখ চ্যাগানো সেলফি :/
ভাল একটা সেলফি তোলা শেখা হলোনা আমার এখনো। -_- )


বেশ কয়েকটা স্কুল থেকে ছেলেমেয়ে আর টিচাররা এসেছিলেন আমেরিকান কর্নারের প্রোগ্রামে। যথারীতি প্রোগ্রাম শেষে ফিরে এলাম হোটেলে। বিকেলে আবার বের হলাম। এইবার আর কাজে নয়। এইবার বের হলাম বেড়ানোর জন্য। সুবর্নাদির সাথে প্রথম গেলাম খুবি ক্যাম্পাসে। ওখান থেকে সুবর্নাদির গ্যাং এর কয়েকজন সহ খুবি ক্যাম্পাসে অটো নিয়ে চক্কর দিলাম। একটা জুসের দোকান আছে। ওই দোকানে জুস খেয়ে বের হয়ে এলাম আমরা। সোজা চলে গেলাম বাজারে। আমার ভার্সিটির এক জুনিয়র ফেসবুকে সাজেস্ট করেছিল ইন্দ্রমোহন সুইটস্‌ এর মিষ্টি খাওয়ার জন্য। এটা নাকি বিখ্যাত। আমি এমনিতেই মিষ্টি পাগল মানুষ। সুবর্নাদিকে বললাম মিষ্টি খাব। তথাস্তু। সবাই হাজির হলাম ইন্দ্রমোহন সুইটস্‌ এ।

আমি চারটা রসগোল্লা আর দুইটা পান্তোয়া খেয়ে ক্ষান্ত দিলুম। জোশ মিষ্টি। মিষ্টি খেয়ে বের হয়ে গেলাম গ্যাং এর সুমন ভাইয়ের বাসায়। সুমন ভাইয়ের বাসার কাজের খালার চুঁইঝালে রান্না করা হাসের মাংসের বেশ সুনাম করেছিলেন সুবর্না দি। আমরা যেদিন খুলনায় নেমেছিলাম সেদিন থেকেই তিনি সেই কাজের খালার শিডিউল নেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। রাত্রে সবাই আসলো। একদল মানুষজন মিলে চুঁইঝালে রান্না করা ঝাল ঝাল হাসের মাংস আর কাঁকড়া দিয়ে ঝরঝরা ভাত খেয়ে আড্ডা দিয়ে ফেরার পথে খেলাম গফফরের মিষ্টি পান। যথারীতি খেয়েদেয়ে আমার নড়ার অবস্থা ছিলনা। হোটেলে এসে দিলাম ঘুম।

পরেরদিন আমি আর মিতু আপু ঢাকার পথে রওনা দিলাম। সুবর্নাদি এসেছিলেন বিদায় জানাবার জন্য। প্রথমে বিমানের বাসে যশোর। এরপর প্লেনে সোজা ঢাকায়। দারুন একখান ট্যুর হয়ে গেলো আমার। এখনো খাওয়াদাওয়ার কথা উঠলে আমি আর মিতু আপু খুলনার খাবারের কথা বলি আর উহু আহা করি। খুলনার ছিমছাম শহর, খাবার, দারুন সব মিশুক মানুষেরা, বয়ারভাঙ্গা গ্রামে পাওয়া সম্মান। দারুন একটা অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে আমার জন্য। আবার যাব কখনো সুযোগ পেলে।  

Saturday, September 29, 2018

লাস্ট কয়েক মাসের লগ

অনেকদিন বাদে ব্লগে ব্লগরব্লগর করছি। এর মাঝে কিছু কিছু পোস্ট দিয়েছিলাম কিন্তু ওগুলি ছিল অনেকটা দায় সারার মতো। এই বছর নিজের জন্য কাজ খুব কমই করেছি আমি। কম মানে খুবই কম। ক্লায়েন্টের কাজ এখানকার ওখানকার কাজই করা হয়েছে আর অ্যানাটমি আঁকা শেখার চেষ্টা চলছে। এটা আঁকতে গেলে দেখা যায় ওটা পারিনা। ওটা শিখতে গেলে এটা পারিনা। এক বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা। কিন্তু এরপরেও লাইফ ইজ গুড। এটা সেটা এঁকে স্কেচবুক ভরিয়েছি প্রায় প্রতি মাসেই। এটা একদিক থেকে ভালই হয়েছে। পেন আর ইংকে আঁকা হয়েছে। বাইরের ফ্রিল্যান্সের কাজ চলছে প্রায় প্রতিমাসেই। পিপিএইচের পাশাপাশা ফাইভারে নিজের একটা অবস্থান আনার চেষ্টা করছি এই বছরের শুরু থেকেই। বইমেলার পরে উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে মিতু আপুর সাথে প্রজেক্ট টিকটালিক এর জন্য "জংগলে গণ্ডগোল" কমিক্সের কাজ করেছি। বেশ মজার একটা অভিজ্ঞতা। এটা নিয়ে একটা আলাদা পোস্ট লিখতে হবে। আর UNHCR এর জন্য কমিক্সের পোস্টার করেছি। এই পোস্টার নিয়ে পরে মেহেদী ভাই ঢাকা কমিক্স থেকে অ্যানিমেশন করেছেন UNHCR এর জন্য। এই প্রজেক্টেও ছিলাম। এখান থেকে ইন্সপায়ার্ড হয়ে আমরা অ্যানিমেশন শেখার চান্সে আছি। রস+আলো এডিটর রনি ভাই মাঝেমাঝে ফোনে কল করে কাজ ধরিয়ে দেন। সময় থাকলে ওগুলিও করা হয়। সব মিলিয়ে ব্যস্তই থাকি। টের পাই নিজের জন্য কাজের পরিমান বাড়াতে হবে। কিন্তু করা হয়ে উঠছেনা।
এই মাসে(সেপ্টেম্বর) নতুন বাসায় উঠলাম । আগের বাসা ছেড়ে দিতে হয়েছে বাড়িওয়ালা আর ব্যাচেলরদেরকে ভাড়া দিবেনা বলে। নতুন বাসা খুঁজা নিয়ে কিছুদিন ঝামেলায় ছিলাম। এরপর বাসা পেলাম বাড্ডা হোসেন মার্কেট এরিয়ায়। নতুন বাসা ছয় তলায়। প্রথম কয়েকদিন জান বের হয়ে গিয়েছিল। এরপর আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে গেল। বড় বড় জানালা আর ব্যালকনিওয়ালা বেশ সুন্দর একটা রুম পেলাম। আগের বাসার রুমের চেয়ে বড়। নিজের ওয়ার্কস্টেশন গুছিয়ে ফেলেছি। বেশ ভাল্লাগে নতুন পরিবেশে। স্টুডিওতে যাওয়াও সহজ হয়ে গেছে এখান থেকে। বাসা থেকে দশ মিনিট হাঁটলেই গুদারাঘাট। ওখান থেকে সোজা হাতির ঝিলের ওয়াটার বোটে করে স্টুডিও এর লোকেশনে। প্রায় সময়ই যাওয়া হয় বিভিন্ন কাজে আর আড্ডা দেওয়ার জন্য।
শুক্রবারে নিজেকে ছুটি দেই যেটা আগে ছিলোনা। একদিন চেষ্টা করি কোন কাজ না করার। সপ্তাহে অ্যাট লিস্ট দুই দিন চেষ্টা করি একজনের সাথে সময় কাটাতে। খুনসুটি আহ্লাদ রিকশায় ঘুরাঘুরি, হাত ধরে হাঁটা দারুন সব দিন। মেহেদী ভাই আর মিতু আপু গ্রিনরোডে বাসা নিয়েছেন। মাঝে মাঝে ওখানেও যাওয়া হয় । জীবন সুন্দর - লাইফ ইজ গুড। 
অনেক কিছুই আঁকতে ইচ্ছে করে। আবার আঁকা হয়না। 
Joker
The Prince of Anarchy

টেকআউট
যেখানের বার্গার আহামরি কিছু লাগে না।
কিন্তু এরপরেও আমরা যাই বসার ভাল জায়গা আছে বলে।
এখানকার চিকেন চিজি বাইটটা বেশ ভাল।
আমি - তোকে সুন্দর লাগছে :D
সে - তুই দাড়িগোঁফ ছাটিস নাই কেন? >_<