Friday, April 19, 2019

কিশোর বাংলার জন্য করা কাজ

প্রিয় আর্টিস্ট মামুন ভাই কিশোর বাংলা ম্যাগাজিনে আছেন আর্ট এডিটর হিসেবে। গেল বছর একদিন  ফোনে কল করে বললেন "রোমেল আগামী মাসের কিশোর বাংলার জন্য একটা গল্পের ইলাস্ট্রেশন করে দে।" আমিও করে দিলাম। এরপর থেকে মাঝেমাঝেই উনি কাজ ধরিয়ে দেন। কাজগুলি করে মজা পাই আমি। কিছু প্রিয় কাজ তুলে রাখি ব্লগে।
কিশোর বাংলা - অগাস্ট'১৮ সংখ্যা
কিশোর বাংলা - জানুয়ারি,১৯ সংখ্যা



কিশোর বাংলা - মার্চ,১৯ সংখ্যা
এই কাজটা করে বেশ মজা পেয়েছিলাম

কিশোর বাংলা - এপ্রিল,১৯ সংখ্যা
সাথে মেহেদী ভাইয়ের কাছ থেকে পাওয়া কারেকশন


Wednesday, March 6, 2019

প্রজেক্ট টিকটালিক - খুলনা

গত বছর(২০১৮) এর বইমেলার পরের কথা। মিতু আপু প্রজেক্ট টিকটালিক এর জন্য একটা সাইন্স কমিক্স প্রজেক্টে কাজ করব কিনা জানতে চাইলেন। আমি টিং করে রাজি হয়ে গেলাম।কমিক্সের নাম "জংগলে গণ্ডগোল"। ফান্ডিং ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট এর। এই বই ফ্রি তে বিলানো হবে ঘুরে ঘুরে স্কুলের ছেলেমেয়েদের কাছে ।

কাজ শুরু হয়ে গেলো। বইয়ের থাম্বলিং করে দিলেন মিতুপু আর আমি বসে বসে ড্রয়িং শেষে ইংকিং আর কালারিং করে ফেললাম। কিছু টেকনিক্যাল পেইজের ড্রয়িং করেছেন মিতু আপু। কাজের সাবমিশন ছিল মার্চের ২০ তারিখে কিন্তু মার্চের ১৭-১৮ তে গিয়ে দেখা গেলো মাত্র ইংকিং শেষ হয়েছে। এদিকে ২০ তারিখে আবার আমার সমাবর্তন। আর ৩২ পেইজের কালার বাকি। এগিয়ে এলেন মেহেদী ভাই। এক সেশনেই এই পাবলিক প্রায় দশ পেইজের কালার নামিয়ে দিলেন। আর কভারও মেহেদী ভাইয়ের করা। বাকি কাজ আমি শেষ করলাম বিশ তারিখ রাতে বসে বসে। সারারাত না ঘুমিয়েই কাজ শেষ করে সকালে সম্রাট আর মিথুনের সাথে রওনা হলাম গাজীপুরে ডুয়েটের উদ্দেশ্যে।

এরপর বই বের হল জুলাই মাসে আর মিতু আপু দলবল নিয়ে দেশের পাঁচ বিভাগের (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী,সিলেট ও খুলনা) সিলেক্টেড স্কুলে এই ফ্রি কমিক্স বিলাতে বের হলেন। সিলেটে মিতুপুর সাথে গেলো মাহাতাব আর সালমান।
প্রিন্টেড কমিক্স

চট্টগ্রামের সফরে আমার যাওয়ার কথা ছিল আর মেহেদী ভাইয়ের খুলনায়। কিন্তু একটা বিশেষ(!) কারনে আমার চট্টগ্রামে যাওয়া হলোনা। তাই ঠিক হলো মিতুপুর সাথে আমি যাব খুলনায় আর মেহেদী ভাই গেলেন চট্টগ্রামে।
সেপ্টেম্বরের ১৬ তারিখে মিতু আপুর সাথে গাট্টিবোঁচকা, ব্যানার নিয়ে রওনা হলাম খুলনার পথে। প্রথমে ঢাকা টু যশোর বাই এয়ার। এরপর যশোর এয়ারপোর্ট থেকে বাংলাদেশ বিমানের বাসেই খুলনা।

(আমার প্রথম বিমান ভ্রমন ছিল এটা। অন্যরকম অনুভূতি।
কিজানি হয়তোবা প্রথম বিমানে চড়সি দেখে লাগসিলো ওরকম।)

যশোর পৌঁছুলাম বিকালের দিকে। এরপর বাসে উঠে খুলনার দিকে যাত্রা। লক্করঝক্কর রাস্তায় ঝাঁকি খেতে খেতে খুলনায় পৌঁছুলাম রাতের নটা সাড়ে নটার দিকে। এসি বাস হওয়ায় রক্ষা পেয়েছিলাম। মিতু আপু যেতে যেতেই বললেন আমাদের রিসিভ করতে আসবেন সুবর্না দি। জিজ্ঞেস করলাম কে এই পাবলিক। মিতুপু বললেন আসলেই দেখবা। আমরা খুলনায় রয়েলের মোড়ে নামলাম আর আমাদের রিসিভ করতে আসলেন সুবর্না দি । সাথে দিদির মেয়ে রোদসী। এরপর অটোতে করে সোজা খাওয়াদাওয়ার জন্য যাত্রা। এই যাত্রাপথেই বুঝে গেলাম সুবর্নাদি একখান মজার মানুষ। উনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর। মিতু আপু যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ছিলেন তখন সুবর্নাদি ছিলেন ওখানে কলিগ। পরে তিনি খুলনায় চলে এসেছেন আর মিতু আপু তো চাকরিই ছেড়ে দিয়েছেন ওই সময়ে এসে। অনেকদিন পর মিতু আপুকে পেয়ে অটোতে হিহি হোহো করছেন মিতু আপুর সাথে আর কিছুক্ষণ পর আবিষ্কার করলাম মনে হচ্ছেইনা সুবর্নাদির সাথে আমার আগে কোনদিন দেখা হয় নাই। এতই মিশুক আর দারুন একজন মানুষ।
এইবার আসি খাওয়াদাওয়ার পালায়। আমাদের তখন খিদে পেয়েছে আর সারাদিনের জার্নি তো ছিলই। খুলনার বিখ্যাত চুঁইঝালের তরকারি খাওয়ার ইচ্ছা ছিল অনেকদিন ধরে। সুবর্নাদিকে বললাম চুঁইঝালের তরকারি খাবো। এরপর সোজা জিরো পয়েন্ট। জীবনে প্রথমবারের মতো চুঁইঝালের তরকারি খেয়ে আমি মুগ্ধতায় থ হয়ে গেলাম। এ এক অন্যরকম ঝাল!


এমনিতেই আমি খাদক প্রাণী। বহুল কাঙ্ক্ষিত চুঁইঝালের তরকারি পেয়ে বেশি খেয়ে ফেললাম। খেয়েদেয়ে হোটেলে ফেরার পথে অটোতে আমার নড়াচড়া বন্ধ। হোটেলে চেকইন করে আমি আমার রুম বুঝে নিয়েই দিলাম একটা ঝাক্কাস শাওয়ার। ঝিকঝাক দারুন রুম। শাওয়ার নেওয়া শেষে এটা সেটা সেরে নিয়ে দিলাম ঘুম। পরেরদিন যেতে হবে খুলনা পাইওনিয়ার স্কুলে কমিক্স বিতরণের কাজে।

পরেরদিন ভোরে মিতু আপু কল করে ডেকে দিলো। দুই ভাইবোনে ব্রেকফাস্ট সেরে নিয়ে রেডি হয়েই দিলাম দৌড়। ব্যানার, টিশার্ট এইসব ব্যাগ ব্যাগেজ নিয়ে হাজির হলাম পাইওনিয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে । স্কুলের হেডমিস্ট্রেস আপা আর অন্যান্য শিক্ষকেরা বেশ সাহায্য করেছিলেন। একটা বড় ক্লাসে ক্লাস নাইন টেন এর পিচ্চিদের জড়ো করা হল। এরপর তাদের মধ্যে থেকে কয়েকজনকে ভলান্টিয়ার বানিয়ে তাদের সাথে কথাবার্তা বলা, কমিক্স নিয়ে বিজ্ঞান নিয়ে ছবি আঁকা গল্প করতে করতেই দুপুর গড়িয়ে গেলো। বেশ মিশুক ছিল পিচ্চিগুলি।
পিচ্চিগুলিকে ছবি আঁকতে দিয়েছিলেন মিতুপু

মিতু আপু বুঝাচ্ছেন আমরা কারা, আমরা কি করি।


বই হাতে ছাত্রীরা


(বইয়ের সাথে ছিল নোটপ্যাড, কলম আর ভলান্টিয়ারদের জন্য টিশার্ট।)

স্কুল থেকে বিদায় নিয়ে দুপুরে আবার সুবর্নাদির সাথে খাওয়াদাওয়া। খেয়েদেয়ে হোটেলে ফিরে এলাম আমরা। আবার বের হলাম বিকেলে। যাত্রা সুবর্নাদির মামাবাড়ি বয়ারভাঙ্গা গ্রামে। সে গ্রামের এক স্কুলে বই দেওয়ার কথা বলেছেন সুবর্নাদি। প্রথমে গেলাম খুবিতে(খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে)। ওখান থেকে ল ডিপার্টমেন্টের ডিন স্যার সহ একদল হুল্লোড়ে আর মিশুক ইয়াং লেকচারারের দল (সুবর্নাদির গ্যাং) নিয়ে খুবির একটা মাইক্রোবাসে রওনা দিলাম বয়ারভাঙ্গা গ্রামের পথে। সুবর্নাদির মামাতো ভাইও(নাম ভুলে গেছি দাদাটার) খুবির শিক্ষক। গ্রামে আগেই খবর পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রামে গিয়ে পৌঁছুলাম ঘণ্টাখানেক জার্নির পরেই। যেতে যেতে মনে হচ্ছিলো আমি আমার গ্রামের বাড়ি রাউজানে চলে এসেছি। রাস্তার দুপাশে গাছের সারি। বেশ দারুন একটা পরিবেশ। গ্রামে গিয়ে দেখি মোটামুটি ব্যাপক আয়োজন। স্কুলের গেটে আমাদের রিসিভ করলেন সুবর্নাদির মামা, স্কুলের হেড টিচার, স্কুল কমিটির পুরনো নতুন সদস্যাবৃন্দ আর গ্রামের অনেক গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা।

(বয়ার ভাঙ্গা বিশ্বম্ভর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আমার মনে পড়ছেনা ঠিক এই মুহূর্তে। 
তবে যতটুক মনে পড়ে তার থেকে বলতে পারি, এই স্কুলের জায়গা আর স্কুলের গোড়াপত্তন করেছিলেন সুবর্নাদির দাদু অথবা দাদুর বাবা। এবং গ্রামের সব স্কুলের মধ্যে এই স্কুলেই নাকি প্রথম বিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়েছিল।) 

আমরা সবাই যাব শুনে অনেককেই নাকি খবর দেওয়া হয়েছিল। গ্রাম আর গ্রামের মানুষজনদের দেখে মনে হচ্ছিলো শরৎচন্দ্রের বইয়ের কোন জমিদার তালুকে টাইম ট্রাভেল করে চলে গিয়েছি। এর মধ্যে রটে গিয়েছিল আমাদের সাথে মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার থাকবেন। সবাই খুব উত্তেজিত। শুনে আমাদের কি হাসি। স্কুলের হলঘরে আমাদের বসানো হল। সামনে টিচাররা, গ্রামের গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা আর ছাত্রছাত্রিরা। আমাদের ফুল দিয়ে বরন করে নেওয়া হলো।

সুবর্নাদি  
খুবির ল ডিপার্টমেন্টের ডিন স্যার। 


মিতু আপুর স্পীচ




এরপর ফরমাল প্রোগ্রাম। মিতু আপু সহ একে একে অনেকেই কথা বললেন। আমরা কারা কেন এসেছি, সায়েন্স কমিক্স কি সব বিষয়ে। স্কুলের টিচারদের কথা শুনলাম। এক অন্যরকম অনুভূতি।  আমার পাশে ছিল পুনম, সুমন ভাই সহ খুবির একঝাঁক তরুন শিক্ষকের দল। পুনম কিছুক্ষণ পরপর একটা একটা কথা বলছে আর আমি দাঁতমুখ চেপে হাসছি। এ ধরনে ফরমাল প্রোগ্রামে আমি সাধারণত অভ্যস্ত না। সিরিয়াস অনুষ্ঠানে হাসাহাসি। এক বিটকেলে পরিস্থিতি আমার জন্য। দারুন একটা সময় পার করলাম। প্রোগ্রাম শেষে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন। খেয়েদেয়ে ফেরার পালা। সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফিরে এলাম খুলনা শহরে। সেদিন যে সম্মান পেয়েছিলাম খুলনার বয়ারভাঙ্গা গ্রামে সে স্মৃতি আমার আঁকিয়ে ক্যারিয়ারে এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যাপ্টার হয়ে থাকবে।

(শহরে ফেরার পথে সবচেয়ে আনএক্সপেক্টেড জিনিসটা দেখলাম আমরা। এমু পাখির খামার। দেখে আমরা থ! একি এই জিনিস এখানে কেন। উটপাখি না এমু পাখি এ নিয়ে তর্ক চলল কিছুক্ষণ। পরে কনফার্ম হওয়া গেলো এমু পাখি। এই গ্রামে এই পাখি কে আনলো কেনো আনল সেটা এখনো আমাদের কাছে রহস্যই থেকে গেলো।) 

ফিরে এসে গেলাম খুবি ক্যাম্পাসে। ক্যান্টিনে কোক পুরী চপ দিয়ে নাস্তা আর আড্ডা শেষে আমি আর মিতুপু ফিরলাম হোটেলে। বেশ মজা পেলাম সুবর্নাদির গ্যাং এর সাথে আড্ডা দিয়ে।
(সুবর্নাদির গ্যাং। আরো কয়েকজন আছে। ছবিতে নেই উনারা। দারুন
সব মানুষ। মিশুক হাসিখুশি আর আড্ডাবাজ) 

(খুবি ক্যাম্পাস। সুন্দর ছিমছাম সবুজে ঢাকা ক্যাম্পাস। পছন্দ হয়েছে।)

রাতে বের হলাম আমি আর মিতু আপু। প্রথমে গেলাম সুবর্নাদির বাসায়। ওখান থেকে দিদি আর রোদসী সহ গেলাম চুঁইঝালের তরকারির জন্য বিখ্যাত আব্বাস হোটেলে। ওখানে গিয়ে যথারীতি আমার খাদক সত্বা বের হয়ে এলো। গলা পর্যন্ত খেয়ে দেয়ে অটোতে গা এলিয়ে দিয়ে ফিরে এলাম হোটেলে।


( চুঁইঝালের খাসি। বেশি জোশ খেতে। এখন কোথাও খেতে গেলে অথবা ভাল খাবারের কথা উঠলে আর ওই জায়গায় যদি আমি আর মিতু আপু থাকি তাইলে হইসে। আমরা চুঁইঝালের তরকারির কথা বলি আর হাহুতাশ করি XD)


পরেরদিন যেতে হবে খুলনার আমেরিকান কর্নারের প্রোগ্রামে। সারাদিনের দৌড়াদৌড়িতে ক্লান্ত ছিলাম। হোটেলের বাথটাবে ডুব দিয়ে থাকলাম অনেক্ষন। শাওয়ার নিয়ে টুকিটাকি কাজ সেরে ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা সেরে নিলাম। এরপর রেডি হয়ে জিনিসপত্র নিয়ে মিতুপুর সাথে রওনা হলাম খুলনা আমেরিকান কর্নারের পথে। পৌঁছে আমারিকান কর্নারের কর্মরত আপু ভাইদের সহায়তায় ব্যানার টাঙিয়ে প্রস্তুত হয়ে নিলাম আমরা।









( প্রোগ্রাম শেষে আমার মুখ চ্যাগানো সেলফি :/
ভাল একটা সেলফি তোলা শেখা হলোনা আমার এখনো। -_- )


বেশ কয়েকটা স্কুল থেকে ছেলেমেয়ে আর টিচাররা এসেছিলেন আমেরিকান কর্নারের প্রোগ্রামে। যথারীতি প্রোগ্রাম শেষে ফিরে এলাম হোটেলে। বিকেলে আবার বের হলাম। এইবার আর কাজে নয়। এইবার বের হলাম বেড়ানোর জন্য। সুবর্নাদির সাথে প্রথম গেলাম খুবি ক্যাম্পাসে। ওখান থেকে সুবর্নাদির গ্যাং এর কয়েকজন সহ খুবি ক্যাম্পাসে অটো নিয়ে চক্কর দিলাম। একটা জুসের দোকান আছে। ওই দোকানে জুস খেয়ে বের হয়ে এলাম আমরা। সোজা চলে গেলাম বাজারে। আমার ভার্সিটির এক জুনিয়র ফেসবুকে সাজেস্ট করেছিল ইন্দ্রমোহন সুইটস্‌ এর মিষ্টি খাওয়ার জন্য। এটা নাকি বিখ্যাত। আমি এমনিতেই মিষ্টি পাগল মানুষ। সুবর্নাদিকে বললাম মিষ্টি খাব। তথাস্তু। সবাই হাজির হলাম ইন্দ্রমোহন সুইটস্‌ এ।

আমি চারটা রসগোল্লা আর দুইটা পান্তোয়া খেয়ে ক্ষান্ত দিলুম। জোশ মিষ্টি। মিষ্টি খেয়ে বের হয়ে গেলাম গ্যাং এর সুমন ভাইয়ের বাসায়। সুমন ভাইয়ের বাসার কাজের খালার চুঁইঝালে রান্না করা হাসের মাংসের বেশ সুনাম করেছিলেন সুবর্না দি। আমরা যেদিন খুলনায় নেমেছিলাম সেদিন থেকেই তিনি সেই কাজের খালার শিডিউল নেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। রাত্রে সবাই আসলো। একদল মানুষজন মিলে চুঁইঝালে রান্না করা ঝাল ঝাল হাসের মাংস আর কাঁকড়া দিয়ে ঝরঝরা ভাত খেয়ে আড্ডা দিয়ে ফেরার পথে খেলাম গফফরের মিষ্টি পান। যথারীতি খেয়েদেয়ে আমার নড়ার অবস্থা ছিলনা। হোটেলে এসে দিলাম ঘুম।

পরেরদিন আমি আর মিতু আপু ঢাকার পথে রওনা দিলাম। সুবর্নাদি এসেছিলেন বিদায় জানাবার জন্য। প্রথমে বিমানের বাসে যশোর। এরপর প্লেনে সোজা ঢাকায়। দারুন একখান ট্যুর হয়ে গেলো আমার। এখনো খাওয়াদাওয়ার কথা উঠলে আমি আর মিতু আপু খুলনার খাবারের কথা বলি আর উহু আহা করি। খুলনার ছিমছাম শহর, খাবার, দারুন সব মিশুক মানুষেরা, বয়ারভাঙ্গা গ্রামে পাওয়া সম্মান। দারুন একটা অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে আমার জন্য। আবার যাব কখনো সুযোগ পেলে।  

Saturday, September 29, 2018

লাস্ট কয়েক মাসের লগ

অনেকদিন বাদে ব্লগে ব্লগরব্লগর করছি। এর মাঝে কিছু কিছু পোস্ট দিয়েছিলাম কিন্তু ওগুলি ছিল অনেকটা দায় সারার মতো। এই বছর নিজের জন্য কাজ খুব কমই করেছি আমি। কম মানে খুবই কম। ক্লায়েন্টের কাজ এখানকার ওখানকার কাজই করা হয়েছে আর অ্যানাটমি আঁকা শেখার চেষ্টা চলছে। এটা আঁকতে গেলে দেখা যায় ওটা পারিনা। ওটা শিখতে গেলে এটা পারিনা। এক বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা। কিন্তু এরপরেও লাইফ ইজ গুড। এটা সেটা এঁকে স্কেচবুক ভরিয়েছি প্রায় প্রতি মাসেই। এটা একদিক থেকে ভালই হয়েছে। পেন আর ইংকে আঁকা হয়েছে। বাইরের ফ্রিল্যান্সের কাজ চলছে প্রায় প্রতিমাসেই। পিপিএইচের পাশাপাশা ফাইভারে নিজের একটা অবস্থান আনার চেষ্টা করছি এই বছরের শুরু থেকেই। বইমেলার পরে উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে মিতু আপুর সাথে প্রজেক্ট টিকটালিক এর জন্য "জংগলে গণ্ডগোল" কমিক্সের কাজ করেছি। বেশ মজার একটা অভিজ্ঞতা। এটা নিয়ে একটা আলাদা পোস্ট লিখতে হবে। আর UNHCR এর জন্য কমিক্সের পোস্টার করেছি। এই পোস্টার নিয়ে পরে মেহেদী ভাই ঢাকা কমিক্স থেকে অ্যানিমেশন করেছেন UNHCR এর জন্য। এই প্রজেক্টেও ছিলাম। এখান থেকে ইন্সপায়ার্ড হয়ে আমরা অ্যানিমেশন শেখার চান্সে আছি। রস+আলো এডিটর রনি ভাই মাঝেমাঝে ফোনে কল করে কাজ ধরিয়ে দেন। সময় থাকলে ওগুলিও করা হয়। সব মিলিয়ে ব্যস্তই থাকি। টের পাই নিজের জন্য কাজের পরিমান বাড়াতে হবে। কিন্তু করা হয়ে উঠছেনা।
এই মাসে(সেপ্টেম্বর) নতুন বাসায় উঠলাম । আগের বাসা ছেড়ে দিতে হয়েছে বাড়িওয়ালা আর ব্যাচেলরদেরকে ভাড়া দিবেনা বলে। নতুন বাসা খুঁজা নিয়ে কিছুদিন ঝামেলায় ছিলাম। এরপর বাসা পেলাম বাড্ডা হোসেন মার্কেট এরিয়ায়। নতুন বাসা ছয় তলায়। প্রথম কয়েকদিন জান বের হয়ে গিয়েছিল। এরপর আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে গেল। বড় বড় জানালা আর ব্যালকনিওয়ালা বেশ সুন্দর একটা রুম পেলাম। আগের বাসার রুমের চেয়ে বড়। নিজের ওয়ার্কস্টেশন গুছিয়ে ফেলেছি। বেশ ভাল্লাগে নতুন পরিবেশে। স্টুডিওতে যাওয়াও সহজ হয়ে গেছে এখান থেকে। বাসা থেকে দশ মিনিট হাঁটলেই গুদারাঘাট। ওখান থেকে সোজা হাতির ঝিলের ওয়াটার বোটে করে স্টুডিও এর লোকেশনে। প্রায় সময়ই যাওয়া হয় বিভিন্ন কাজে আর আড্ডা দেওয়ার জন্য।
শুক্রবারে নিজেকে ছুটি দেই যেটা আগে ছিলোনা। একদিন চেষ্টা করি কোন কাজ না করার। সপ্তাহে অ্যাট লিস্ট দুই দিন চেষ্টা করি একজনের সাথে সময় কাটাতে। খুনসুটি আহ্লাদ রিকশায় ঘুরাঘুরি, হাত ধরে হাঁটা দারুন সব দিন। মেহেদী ভাই আর মিতু আপু গ্রিনরোডে বাসা নিয়েছেন। মাঝে মাঝে ওখানেও যাওয়া হয় । জীবন সুন্দর - লাইফ ইজ গুড। 
অনেক কিছুই আঁকতে ইচ্ছে করে। আবার আঁকা হয়না। 
Joker
The Prince of Anarchy

টেকআউট
যেখানের বার্গার আহামরি কিছু লাগে না।
কিন্তু এরপরেও আমরা যাই বসার ভাল জায়গা আছে বলে।
এখানকার চিকেন চিজি বাইটটা বেশ ভাল।
আমি - তোকে সুন্দর লাগছে :D
সে - তুই দাড়িগোঁফ ছাটিস নাই কেন? >_<

Friday, September 28, 2018

যে কারনে আমি ফ্রি তে আর্ট রিলেটেড কাজ করি না!

আমি সাধারণত ক্যারিকেচার পোর্ট্রেট এসব আঁকিনা। কার্টুন, কমিক্স এর ক্যারেক্টার আঁকি আর বই আর অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জন্য ইলাস্ট্রেশন করি। আসলে বেশিরভাগ সময় আমার আঁকা ক্যারিকেচারের চেহারা মেলে না বলে আঁকিনা। মাঝে মাঝে ইচ্ছে হলে আঁকা শুরু করি কারো ফেসবুক প্রোফাইলের ছবিতে হানা দিয়ে। একটু আধটু মিলে যায়। সাধারণত তাদের ছবিই আঁকি যারা কখনো আমাকে তাদের ছবি আঁকার জন্য রিকুয়েস্ট করেন নাই। তারা হঠাৎ আঁকা ছবি পেয়ে খুব খুশি হন। ভাল্লাগে। 
কিন্তু কেউ যখন ছবি এঁকে দেওয়ার জন্য বা আমার কাছে ডিজাইন চেয়ে আবদার করে তখন আমি সরাসরিই বলি ছবি আঁকতে টাকা লাগবে। ফ্রি তে কাজ করিনা আমি। অনেকে বেজার হন আমার উপর, হয়তো ব্রলোক, ট্রলোকও বলেন। আসলে আমি কিন্তু গরিব। 
কেন ফ্রি তে কাজ করিনা? আজকে ফেসবুকে এক ফেলো আর্টিস্ট এর পোস্টে কমেন্ট করতে করতে মনে পড়ে গেলো ঠিক কবে আমি রিকুয়েস্ট এর ছবি আঁকা বা কাজ করা ছেড়েছিলাম। যখন ছবি আঁকা শুরু করেছিলাম তখন প্র্যাকটিস এর অংশ হিসেবেই এর তার ছবি আঁকতাম। কেউ রিকুয়েস্ট করলেই আঁকার চেষ্টা করতাম। পারতাম না। কিচ্ছুই হতোনা। এরপরও দিতাম। এর মধ্যে একদিন একজন বলল দাদা আমার একটা ছবি এঁকে দেন। দিলাম এঁকে একদিন সময় নিয়ে। সে ছবি পেয়ে বলল। হুমম... দাদা এটা ভাল করে আঁকেন নাই। আরেকটা ভাল করে এঁকে দেবেন একদিন কিন্তু। আমি এহেহেহে করে বাই বললাম। সেদিন কান ধরেছিলাম আমি। পারি আর না পারি ফ্রি তে কাজ করবোনা কারো জন্য আর। ফ্রি পাইলে লোকে দাম দেয়না। এই কথাটার সত্যতা সেদিন পেয়েছিলাম আমি।
ভাই আমি কেমন আঁকি সেটাতো আমার কাজ দেখেই বুঝা যায়। আপনার ছবি আঁকলে আমি আমার মোট পচা করেই আঁকবো এবং যেহেতু এটা আপনার রিকুয়েস্ট সেহেতু আমার আঁকা পচা ছবিই আপনাকে খুশি হয়ে গ্রহন করতে হবে। আপনাকে এটা রিয়েলাইজ করতে হবে একজন মানুষ তার জীবনের কিছু মিনিট/ঘন্টা আপনার জন্য ব্যয় করেছে ফ্রি তে। আপনাকে সেটা অ্যাপ্রিশিয়েট করতে হবে। ওই টেরিবল ঘটনার পর থেকে আমি পোর্ট্রেট ক্যারিকেচার এসব করতে ভয় পাই। আমার মধ্যে একটা ভয় ঢুকে গিয়েছিল যে আমি মনে হয় কোনদিন কারো চেহারা আঁকতে পারবোনা। এটা নিয়ে মন খারাপ হতো। পরে এটা কাটিয়ে উঠি এটা রিয়েলাইজ করার পর যে সবাইকে সবকিছু পারতে হবে এমন কথা নাই। চেহারা নাই বা আঁকলাম। পেরা নাই। আঁকার মতো জিনিসের অভাব নাই দুনিয়াতে।
আর ইদানীং মাঝে মাঝে আমার পেইজে মেসেজ পাই,
"ভাইয়া আমি আপনার ফ্যান।
আমার একটা ছবি এঁকে দেন"
জি না আমি আপনার ছবি আঁকবো না । Being fan is not enough when you are asking for a work from a professional. Your facebook like doesn't pay his bills. Your payment does. Thank you for understanding.
বিঃদ্রঃ এক্সসেপশন আছে কিছু যেমন আমার ফ্যামেলি মেম্বার আর কাছের বন্ধুরা। আর আমি কিছু কিছু মানুষকে কোন না কোন কারনে পছন্দ করি। সেটা তাদের মতাদর্শ/লেখালেখি/কাজকারবার অথবা তাদের সাথে মেশার কারনে আর যে কোন কিছুর কারনে হতে পারে। তাদের রিকুয়েস্ট পেলে বলি আচ্ছা একদিন এঁকে দেব। তাদের ছবি কোন না কোন একদিন আঁকা হয়ে যাবে।
আবার অল্প কিছু মানুষ আছেন যারা যখন আমাকে বলেন আমার জন্য এই কাজটা করে দাও/দে তখন আমি এটা ভেবেই খুশি হয়ে যাই যে তারা আমাকে তাদের জন্য কাজ করতে বলছেন। পেমেন্ট পাই আর না পাই কিচ্ছু যায় আসে না। আমি দৌড় দিয়ে কাজগুলি করে দেই। তারা যদি বলে ওই যে আগুন দেখা যায়। যা ঝাপ দে। আমি প্রশ্ন ছাড়াই ঝাপ দিয়ে দেব।

Wednesday, September 12, 2018

উন্মাদের চল্লিশ বছর

গেল জুলাইয়ে দৃক গ্যালারীতে হয়ে গেল উন্মাদ ম্যাগাজিন এর ৪০ বছর সেলিব্রেশন আর এ উপলক্ষে কার্টুন প্রতিযোগিতা আর এক্সিবিশন । ৫ থেকে ৯ জুলাই মোট পাঁচদিনব্যাপী এই এর কার্টুন এক্সিবিশনে আমার একটি কার্টুন স্থান পেয়েছিল। এক্সিবিশনে একদিন গিয়েছিলাম জাস্ট। তাও বাবলু ভাইয়ের সাথে ঘুরান্তিস দেওয়ার সুবাদে। কাজের চাপ ছিল আর ছিল আলসেমি। কিছু ছবি তুলে রাখি

কাল একটা বিষয় নিয়ে গুগল সার্চ করার সময় দেখি উন্মাদ এর ৪০ বছর পূর্তি নিয়ে করা ডেইলি স্টারের রিপোর্টে আমার কার্টুনের কথা আর ছবি। আগে খেয়াল করি নাই এই রিপোর্ট। ভাল্লাগসে দেখে :B
https://bit.ly/2CNpi0U
সিফাতের তোলা ছবি। আমরা যেদিন গিয়েছিলাম সেদিন দৃকে যেতে যেতেই আমার ফোনের ব্যাটারির চার্জ শেষ। শান্তিতে ছবিও তুলতে পারি নাই দুইটা -_- 

উন্মাদ যুগে যুগে। সেই এককোষী প্রাণীর যুগ থেকে শুরু করে পোস্ট অ্যাপোক্যালিপ্টিক যুগে নিয়ে গেলাম উন্মাদ দের।
উইথ বস আহসান হাবিব

আমার কার্টুনের সামনে বাবলু ভাই আর আমি।
বাবলু ভাইয়ের ঘোলা লেন্সের ক্যামেরায় তোলা ছবি।

Friday, July 20, 2018

Chester Bennington

"Sometimes, sometimes you don't say goodbye once
You say goodbye over and over and over again
Over and over and over again
Sometimes, sometimes you don’t say goodbye once
You say goodbye over and over and over again
Over and over and over again"

Say Goodbye - Mike Shinoda


Chester Charles Bennington
(20/03/1976 - 20/07/2017)
You will always be missed.