Sunday, June 11, 2017

আমার আঁকিয়ে হয়ে উঠাঃ ছেলেবেলা থেকে বড়বেলা !

গত দু সপ্তা নড়তেচড়তে পারিনি ধরতে গেলে। ঢাকা কমিক্সের বোর্ড এর বইয়ের কাজ আর অফিসের ঈদ সংখ্যার একগাদা ইলাস্ট্রেশনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম খুব। দম ফেলার ফুরসত পাইনি ধরতে গেলে। আজ অফিসে গিয়ে দিয়ে আসলাম সব। ওখানে বসেও দুই তিনটা কাজ করতে হয়েছিল :|
ব্লগে একটা বিষয় নিয়ে লিখব লিখব করে লেখার সময় পাচ্ছিলামনা। তবে যা বুঝলাম তাতে ফ্রি হওয়া বলে কিছু নাই। সব মিডিয়ার সৃষ্টি।

আমার আঁকাআঁকির শুরু ছোটবেলা থেকেই। ক্লাস থ্রি - ফোর এই দুবছর ছিলাম মামাবাড়িতেই। কারন ছিল স্কুল কাছে আর সেজোমামা! সেজোমামা মেঝোমাসি এই দুজনেই মাস্টার। তাই আমার, রনেলের আমাদের দুজনের পড়ালেখা করাতেন সেজোমামা। মামার কাছে আরো কজন প্রাইভেট পড়তে আসতো আর আমরাও তাদের সাথে বসে যেতাম। কখনো মার খাইনি কারন সেজো মামা নরম স্বভাবের মানুষ। তবে ছোট মাসির কাছ থেকে ভালই মার খেয়েছিলাম আমরা। :D
যাই হোক, মামার বাড়ির ছাদে আমি আর আর রনেল প্রায় সময়ই হানা দিতাম। গ্রামের বাঁশের বেড়ার ঘরের ছাদ মানে অন্য রকম ব্যাপার। চালের নিচে আর রুমের সিলিং এর মাঝখানের যে ফাঁকা জায়গাটা থাকে সেখানে বিভিন্ন রকম জিনিসপত্র রাখা হতো। হাঁড়িপাতিল। আলুর বস্তা, পুরনো জিনিসপত্র এসব। এখানে আমি উঠে বসে থাকতাম আর পুরনো ম্যাগাজিনের পাতা উল্টাতাম। সেখানেই একদিন পেয়ে যাই মেঝো মাসির প্রাইমারি স্কুল ট্রেনিং এর লগ খাতা। এর মধ্যে কিছু খাতা ছিল আঁকাআঁকির। অনেক রঙিন রঙিন আঁকা। ওসব আঁকা দেখেই আঁকা শুরু। কপি করতাম দেখে দেখে। রনেলের জন্য রং পেনসিল আনতো মেঝো মেসো। সে ওসবের ধারেকাছে ছিলনা। ওসবের সদব্যাবহার করতাম আমি। হাই স্কুলে উঠার পর বাবা প্যাস্টেল কালার কিনে দেয় আর স্কেচবুক। আঁকাআঁকির শুরু। টিভিতে কার্টুন শো দেখতাম আর ক্যারেক্টারগুলিকে আঁকার চেষ্টা করতাম।

সুইডিশ পলিটেকনিকে পড়ার সময় আঁকাআঁকির পরিমাণ বেড়ে যায়। দিনভর হৈহল্লা, বই পড়া, চিল্লাচিল্লি আর আঁকাআঁকি নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। হোস্টেলের রুমের দেয়ালে, ডেস্কে, টিশার্টে, জিন্সে, নোটে সবখানে চলতো। তখন সুমিতদার কাছে আলপনা আঁকায় হাতেখড়ি। এরপর ভার্সিটি অ্যাডমিশনের জন্য প্রায় এক বছর আঁকাআঁকি বন্ধ রাখি ২০১০ এ। ১১ তে যেয়ে ইউনিভার্সিটি লাইফ শুরু। ক্লাস যেদিন শুরু হবে তার আগের রাতে বড় ভাইরা ডেকে নিয়ে আমাকে, সুজয়কে আর রানাকে বলল, আলপনা কর। আবার শুরু। তিনজনে মিলে ক্যাম্পাসের এখানেওখানে, সংগঠনের প্রোগ্রামে, ডিপার্টমেন্টের প্রোগ্রামে, সৃজনী এর প্রোগ্রামে সবখানে রং এর বালতি আর ব্রাশ নিয়ে রংবাজি করে বেড়াতাম। এর মধ্যে বন্ধু সুজয় আমাকে ফটোশপ এর কাজ শেখায় আর আমিও ইউটিউব থেকে দেখে দেখে অনেক কিছু হাতে আনলাম ফটোশপের।

২০১২ এর দিকে ফেসবুকে একটা পোস্ট দেখি। ট্র্যাডিশনালি কার্টুন এঁকে ডিজিটাল মিডিয়ামে কালার করার একটা টিউটোরিয়াল। ওটা ছিল কার্টুনিস্ট মেহেদী হক এর (পরে যার হাত ধরে আমার কার্টুনিস্ট হওয়া। আমার পরম গুরু)। সেটা দেখে আমার সামনে একটা নতুন জগত খুলে গেলো। এর আগে রস আলো আলপিন বিচ্ছু এসব ফান সাপ্লিমেন্টের কার্টুন গুলি দেখতাম আর ভাবতাম এতো স্মুথলি কালার কন্ট্রোল কিভাবে করে আর্টিস্টরা! সে রহস্যের সমাধান পাই মেহেদী ভাইয়ের সেই পোস্টে। ফেসবুকেই ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ এবং উনার ব্লগ ফলো করা শুরু। ফেসবুকে আকান্তিস গ্রুপে আঁকা দেখতাম নিজেও আঁকার চেষ্টা করতাম। ফিডব্যাক নিতাম আর প্রচুর পরিমানে ভুলভাল এঁকে যেতাম। শুভ ভাই, আসিফ ভাই, মেহেদী ভাই সহ আরো অনেক আর্টিস্টদের কাজ দেখে দেখে রিয়েলিস্টিক, চিবি, স্টাইলাইজড কোন রকম আঁকার চেষ্টাই বাদ দেইনি। পোর্ট্রেট, ক্যারিকেচার সব রকম আঁকার চেষ্টা ছিল। আস্তে আস্তে হাত আসা শুরু করলো বুঝতে চেষ্টা করতে থাকলাম কোন টাইপ এর ড্রয়িং আমাকে স্যুট করে। ২০১৪ এর বইমেলায় গুরু মেহেদী ভাইয়ের সাথে আমার সামনাসামনি প্রথম দেখা। উনার "কার্টুন আঁকিবার ক, খ, গ ও ক্ষ" বইটা হাতে পাওয়া। উনাকে বলেছিলাম ভাইয়া আমিও কার্টুনিস্ট হতে চাই। উনি বলেছিলেন গ্রেট। সে থেকে শুরু। কোচিং এর ক্লাস নিয়ে পাওয়া টাকা দিয়ে গ্রাফিক ট্যাবলেট কিনলাম (যেটা ছিল ভুল এবং ঠিক কাজ দুটোই )। কার্টুন আঁকতাম ভুলভাল। হার্ডকোর অ্যানাটমির জন্য প্রোকো এর চ্যানেল আবার স্টাইলাইজড ড্রয়িং এর জন্য ইউটিউবের শত শত চ্যানেল সব রকম টিউটোরিয়াল দেখা ফলো করার কারনে গিট্টু খেয়ে গিয়েছিলাম। শতের উপর টিউটোরিয়ালে হার্ডড্রাইভ ভর্তি হয়ে গেলো। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছিলোনা, ক্লাসে স্কেচবুক নিয়ে যেতাম, আঁকতাম এটাওটা। প্রচুর সময় ব্যয় করতাম ফটোশপ আর স্কেচবুকে। এরপরেও ভাল হতোনা। এখন এসে বুঝতে পারি আসলে তখন আমার শেখার পদ্ধতিতে গণ্ডগোল ছিল। (এখনো গণ্ডগোল থেকেই গিয়েছে :D)

২০১৫ এর শেষ দিকে এসে ইউনিভার্সিটি লাইফ শেষ হলো। কিছুদিন আম্রিকা যাওয়ার জন্য জিআরই আবার কিছুদিন সরকারি চাকরীর জন্য পড়াশোনা, পরিবার আর এরওর চাপে পড়ে বিসিএস এর একটু আধটু স্বপ্ন সবকিছুই দেখেছিলাম গ্র্যাজুয়েশন শেষে। পরে সব শেষে এক ভাইয়ের সাথে আড্ডায় উনার বুদ্ধিতে শুরু করলাম ফ্রিল্যান্সে আঁকাআঁকি আর মজা পেয়ে গেলাম।
আরে বাহ! জোশ তো! ছবি এঁকে তো দেখি কোনরকমে চলার মতো ইনকাম করা যায়! এটাই করিনা কেন তাইলে? বাবা মা চাচা চাচি ফুফু মামা তামা সবার চোখরাঙ্গানি দাঁতখিঁচুনি কে পাত্তা না দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে প্রফেশনাল লাইফ শুরু করলাম আঁকাআঁকিতেই... মাথায় এটাই ছিল দেখি কি হয়। আর কিছু না হলে তো ডিগ্রী আছেই। ডিগ্রী কাজে লাগিয়ে চাকরি নেব।
প্রফেশনালি আঁকতে গিয়ে আস্তে আস্তে টের পেলাম কেন আমার আঁকা ভাল হচ্ছিলোনা। সমস্যাটা ছিল, "এক লাফেই আকাশ ছোঁয়ার চেষ্টা"। স্কেচবুকে পেনসিলকে হাতে আনার আগেই ডিজিটাল মিডিয়ামের প্রতি ইন্টেরেস্ট দেখাতে গিয়েই সব লেজেগোবরে করে ফেলেছিলাম। এখন কোন নতুন কেউ যদি আমার কাছে পরামর্শ চাইতে আসে কিভাবে আঁকবে বা শুরু করবে, আমি প্রথমেই বলি যেন ডিজিটাল মিডিয়াম থেকে এক হাজার হাত দূরে থাকে। যে ভুলটা আমি করেছিলাম আমি চাইনা সেটা আর করুক। ডিজিটাল মিডিয়াম যে খারাপ সেটা না। অনেক সুবিধাই পাওয়া যায়। কিন্তু পেনসিলকে বাগে আনার আগে ডিজিটাল মিডিয়ামে হাত দেওয়া বোকামি। অনেকে মনে করে ওয়াকম ট্যাবলেট হাতে পেলেই আর্টিস্ট হওয়া যায়! দেখে হাসি পায়। আমিও মনে করতাম একসময়। এখন টের পাই আঁকতে জানলে মিডিয়াম ব্যাপার না। তবে মেহেদী ভাই আসিফ ভাই সবারই সাজেশন স্কেচবুক। এরপর বাকি সব। আমিও এটাই বলি। এটাই আদি ও আসল। আমি এখন যত কার্টুনই আঁকি সবগুলির থাম্বনেল আগে স্কেচবুকে এঁকে নেই যতই ব্যস্ততা থাকুক। এরপর ডিজিটাল মিডিয়ামে বাকি কাজ। কাজ অনেক কমে যায়। কারন আমার কাছে সাজেশন থাকে কোথায় কোন লাইনটা হবে।

২০১২ থেকে ২০১৫ এই কবছরে যে কিছুই শিখিনি তা নয়। অনেক কিছুই শিখেছি। ডিজিটাল মিডিয়াম এর বেসিক এই সময়টাতেই হাতে আসে আর ভুল করেছিলাম অনেক। সে ভুলগুলির থেকে পাওয়া শিক্ষা তো আছেই। যাই শিখি কোন কিছুই আসলে বৃথা যায়না। ২০১৫ এর প্রথম দিকে ফাইনাল ইয়ার ফার্স্ট সেমিস্টারে আমি আমার প্রথম কমিশন কাজ পাই। এক ভাই ফেসবুকে আমার কাজ দেখে আমাকে নক দেন ওনার হয়ে কাজ করব কিনা জানার জন্য। ওনার জন্য ফ্রিল্যান্সে অনেক কাজই করেছিলাম। সে অভিজ্ঞতাও কাজে লেগেছে। সব ভুল শুদ্ধ মিলিয়েই গ্র্যাজুয়েশন শেষে ২০১৫ এর শেষ দিক থেকে ফ্রিল্যান্সে প্রফেশনালি কার্টুন আর ইলাস্ট্রেশন আঁকা শুরু। এর ফাঁকেই আকান্তিস স্কুল এ মেহেদী ভাইয়ের বেসিক কার্টুনিং ওয়ার্কশপ করলাম আর আকান্তিস স্কুল আর ঢাকা কমিক্সের আয়োজনে আসিফ ভাইয়ের কমিক্স ড্রয়িং ওয়ার্কশপ করলাম। সবসময় এই দুইজন  মানুষের কাছ থেকে হেল্প পেয়ে এসেছি। এখনো পাই সবসময়ই। অনেক কিছুই শিখেছি জেনেছি এখনো শিখি ইনাদের কাছ থেকে।

২০১৬ এর মাঝামাঝি সময়ে "কালের কণ্ঠ" পত্রিকার "ঘোড়ার ডিম" সাপ্লিমেন্টের জন্য কাজ করেছিলাম কন্ট্রিবিউটর হিসেবে আর ২০১৬ এর শেষ দিকে এসে "দৈনিক যুগান্তর"এ কার্টুনিস্ট হিসেবে চাকরি শুরু। সে আরেক কাহিনী। ওটার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্স চালাচ্ছিলাম অল্পস্বল্প। এই সময়ে এসে টের পাই প্রিন্ট মিডিয়ায় কাজ করা অনেক ইম্পরট্যান্ট একটা ব্যাপার। শেখা যায় অনেক কিছুই। ভুল ত্রুটি শেখা সব মিলিয়ে কাহিনীর আর শেষ নাই। চলছে চলবে। তো যাই হোক হ্যাপি কার্টুনিং। :)

Saturday, May 27, 2017

বই কমিক্স গ্রাফিক নভেল আর অন্যান্য

পাঠ্যবইয়ের বাইরে আমার পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছিল প্রাইমারি স্কুলে পড়াকালীন সময় থেকেই। বাবা দোকানের জন্য পেপার কিনতো। আর আমি দোকানে গেলেই ছোটদের পাতা, বিজ্ঞান পাতা ওসব পড়তাম। হাইস্কুলে পড়াকালীন সময় থেকেই আমার পড়ালেখার গণ্ডি একটু বড় হয়। হাতে তিন গোয়েন্দা, রহস্য পত্রিকা আর সেবা প্রকাশনীর বিভিন্ন বই আসতে থাকে স্কুলের বন্ধুদের কাছ থেকে। একদিন ক্লাসে দেখলাম রাফেল চাকমা নামের এক বন্ধু একটা বই পড়ছে যে বইয়ের পুরো পৃষ্ঠা জুড়ে ছবি আর লেখা। সেটা ছিল "লম্বু মোটু আর কালোচিতা" নামের একটা বই এবং আমার দেখা প্রথম কমিক্স। মজার ব্যাপার হচ্ছে লজ্জার মা-বাপ মেরে আমি সেটা রাফেলের কাছ থেকে চেয়ে বসলাম।ইন্ডিয়ান কমিক্স (চাচা চৌধুরী, পিংকি, বিল্লু, ডাইনামাইট, লম্বু মোটু এসব) আরো পড়ার সুযোগ হয় কাজিন তনুদি-পিয়াদির সাথে পরিচয় হওয়ার পর। বছর শেষে গ্রাম থেকে বাবা আমাদের শহরে আনতো এখানসেখান ঘুরানোর জন্য। তনুদিরা, সুজয়রা সহ সবাই মিলে ঘুরতাম আর বাড়ি ফিরতাম তনুদির কাছ থেকে পাওয়া কমিক্স , ডিজনির বই এসব নিয়ে। ক্লাস নাইন টেনে উঠার পর থেকেই প্রয়াত স্যার হুমায়ূন আহমেদ এর বই পড়া শুরু হয় আর সমরেশ বাবুর বই 'গর্ভধারিণী' হাতে পাই। ২০০৫ এ এসএসসি পাশের পর অনেক বছর আর কমিক্স পড়া হয়নি। পলিটেকনিকে পড়ার সময় খুব বই পড়তাম আমি আর তামিম। ব্র্যাক লাইব্রেরীর সদস্য ছিলাম। অনেক বই পড়েছিলাম সে সময়। দিনরাত বই নিয়ে পড়ে থাকতাম। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় আবার কমিক্স পড়া শুরু করি। তখন পড়তাম শুধুমাত্র দেশিগুলো। ঢাকা কমিক্স এর কমিক্সগুলি। ২০১৫ এর শেষদিকে পড়াশুনা শেষে কিছুদিন এটাসেটা করার পর ফ্রিল্যান্সিং শুরু। গাজীপুরে থাকার সময় আর্টিস্টদের সাথে তেমন একটা দেখা সাক্ষাত হতোনা বললেই চলে। এর মাঝেই মেহেদী ভাইয়ের কার্টুনিং কোর্স আর এরপর আসিফ ভাইয়ের কমিক্স ড্রয়িং কোর্স করে ফেললাম গাজীপুর থেকে আসা যাওয়া করেই। এর মাঝেই গেল বছর সেপ্টেম্বরে গাজীপুর থেকে ঢাকায় মুভ করলাম। কমিক্স কোর্সের শেষ দুই ক্লাস করেছিলাম ঢাকায় মুভ করার পর। আস্তেধিরে মাহাতাব প্রসূন অ্যাড্রিয়েন দের সাথে ঘুরাঘুরি, মুভি দেখা, স্কেচবুকিং শুরু। এ সময় থেকে বিদেশী কমিক্সের সাথে আমার পরিচয়। আসিফ ভাই, অ্যাড্রিয়েন মাহাতাব এদের সাথে আলোচনা হতো কমিক্সের ব্যাপারে, রিভিউ পেতাম। নীলক্ষেতের ম্যাগাজিন গলিতে মাহাতাব এর সাথে অভিযানে যাই। আর সেকেন্ডহ্যান্ড ভাল কোন গ্রাফিক নভেল, কমিক্স বা মাঙ্গা পেলেই কিনে নিয়ে আসি। এর মাঝে ভাল একটি কালেকশন পেয়ে গেছিলাম। বিখ্যাত জাপানী মাঙ্গা আর্টিস্ট এবং স্টুডিও গিব্লির সহ প্রতিষ্ঠাতা Hayao Miyazaki এর NAUSICA of the valley of the wind এর সাতটি বইই পেয়ে গেলাম। আমাকে আর পায় কে! কিনে নিলাম। এখনো পর্যন্ত আমার কালেকশনের সবচে দারুণ কালেকশন এটা। :D এরকম কিনে নেওয়া বেশ কিছু গ্রাফিক নভেল আর কমিক্স জমে গিয়েছে যেগুলি এখনো পড়া হয়নি। তাছাড়া কোন কমিক্সের আঁকার স্টাইল ভাল লাগলেও কিনে নেই (যদি টাকা থাকে মানিব্যাগে -_-) । আর অনলাইনে তো কমিক্স পড়িই। আগে পড়তে পারতাম না । এখন অভ্যেস হয়ে গেছে। ইদানীং পড়ছি Saga. গল্প আঁকা সব মিলিয়ে দুর্দান্ত এক গ্রাফিক নভেল। ইমেজ কমিক্সের কমিক্সগুলির ভক্ত হয়ে গেলাম। আর নীলক্ষেতে গেলে বই কেনা হয় । ইদানীং পড়ছি রাহুলজির "ভোলগা থেকে গঙ্গা"। দারুণ একখান বই। সেদিন পাড়ার মাঠে দেখলাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের লাইব্রেরীর ভ্যানটা। সদস্য হয়ে গেলাম টুক করে আবার।
"Nausicaa of the valley of the Wind"    
by "Hayayo Miyazaki"

"The art of Simon Bisley"
এবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে চিটাগাং গিয়েছিলাম। তখন একদিন সুজয় কে নিয়ে ঘুরছিলাম জিইসি এর মোড়ে। অমর বইঘরে গেলাম টাইম পাস করার জন্য। তখন এক কোণায় দেখি পুরনো কমিক্সের সাথে এই বইটা। আমাকে আর পায় কে। কাউন্টারে গিয়ে বললাম দাম কত। দোকানদার বলল, ৩০০ টাকা দেন। আমি খুশিতে লাফটা দিলাম না খালি। মানিব্যাগ খুলে দিয়ে দিলাম টাকাটা। :D দোকানি আমাকে গছাতে পেরে খুশি আর আমি পেয়ে খুশি। কেউ মনে হয় কিনছিলোনা এই বই। ৯০+ পেইজ কালার ইলাস্ট্রেশন। সাইমন বিজলে এর আঁকা সব। অসাধারণ। ফ্র্যাঙ্ক ফ্রাজেত্তা এর আঁকার টেস্ট পাওয়া যায়। 

ম্যাগাজিন গলি থেকে পাওয়া স্ট্যান্ড অ্যালোন গ্রাফিক নভেল আর বাংলাদেশি কমিক্স। 

Conan, The death of Groo (legend Sergio Aragone's), The Town that didn't exist, Tintin
চিল্ড্রেন বুকস। বেশিরভাগই মহাগুরু সব্যসাচী মিস্ত্রী দার আঁকা। মাঝেমাঝেই খুলে দেখি। চোখে আরাম লাগে।
পাঞ্জেরী, মাইটি পাঞ্চ, সহ DC, Image, Marvel এর পুরনো কমিক্স
সবই ঢাকা কমিক্স এর কমিক্স। ঢাকা কমিক্সের মোটামুটি সব কমিক্সই কালেকশনে আছে আমার। অল্প কিছু ইস্যু শেষ হয়ে গেছে বলে পাচ্ছিনা।
উপরের বইটি গুরু মেহেদী ভাইয়ের "কার্টুন আঁকিবার ক, খ, গ এবং ক্ষ।" আমার কার্টুনিংয়ের ভিত্তিপ্রস্তর। আর সবচে নিচের বইটি দ্যা গ্রেট "সুকুমার রায়" এর আবোলতাবোল। অরিজিনাল কলকাতা ভার্সন।
উন্মাদ আর বিচ্ছু। উন্মাদের কিছু ইস্যু হারিয়ে গেছে। আর বিচ্ছুর অনেক ইস্যুই নাই আমার কাছে। প্রথম ইস্যুটাই নাই মাইরি। :/
এই শেলফ ভরবো আমি কেমন করে??????



Friday, May 26, 2017

বিচ্ছু (মার্চ ২০১৭ - মে ২০১৭)

বিচ্ছুর জন্য কার্টুন ছাড়াও গ্রাফিকের কাজ করা হয় অনেক। সাধারনত গ্রাফিকের কাজ গুলি ব্লগে তোলা হয়না। সব কার্টুন নিজের পছন্দও হয়না। অনেক কার্টুন আঁকতে হয় তাড়াহুড়ো করে আবার অনেক কার্টুনের জন্য ভালই টাইম পাওয়া যায়। এর মাঝে অনেক কাজ করে মজা পাই আবার অনেক কাজ জাস্ট করতে হবে বলেই করা হয়। 
প্রিয় কিছু কাজ তুলে রাখি। বাকি সব পাওয়া যাবে এখানে

ব্যাকগ্রাউন্ডে সলিড কোন কালার রেখে ফোরগ্রাউন্ডে জাস্ট সাদাকালোতে কার্টুন এর এই স্টাইলটা ডেভেলপ করেছিলাম বিচ্ছুর প্রিন্ট ভাল হয়না বলে। প্রিন্টে ভালই আসে এই স্টাইলে আঁকা কাজগুলি।















এই কাজটা করে দারুণ মজা পেয়েছিলাম। মেহেদী ভাই আর আসিফ ভাই দেখে বললেন ভালই হয়েছে। পার্সপেক্টিভে ঝামেলা আছে দেখে কারেকশন দিলেন। এরপর বেশ কিছুদিন ছিলাম পার্সপেক্টিভ নিয়ে। 


এই কাজটা করে মজা পেয়েছিলাম।








Tuesday, May 23, 2017

ভাল জেশ্চার = রিলিফ

আঁকাআঁকির শুরু থেকেই বড় একটা প্রবলেম, এখনো প্রবলেম হচ্ছে জেশ্চার বা ভঙ্গিমা । অফিশিয়াল বা প্র্যাকটিস পারপাসে অনেক আঁকা হয় কিন্তু অনেক সময় কাজ শেষে দেখা যায় রিদম টা মিসিং! আর রং স্টাইল সব দারুণ হলেও রিদম না থাকার কারনে আঁকা মার খেয়ে যায়। অনেক দিন হবেনা আসলে, ধরতে গেলে আঁকাআঁকির শুরু থেকেই জেশ্চার নিয়ে প্রবলেমে আছি আমি। আঁকতে গেলে প্রায় সময়ই রেফারেন্স প্রয়োজন হয়। যেটা হয়েছে মাথার ভেতর প্রচুর পরিমানে ভঙ্গিমার লাইব্রেরি না থাকার কারনে।
গেল বছর ডিসেম্বরে পাঞ্জেরী পাবলিকেশনের জন্য কমিক্স আঁকতে গিয়ে প্রবলেমটা বেশি ফীল করতে থাকি। যদিওবা বাচ্চাদের কমিক্স ছিল বলে কাটিয়ে দিতে পেরেছি। একদিন স্টুডিওতে মেহেদী ভাই আমাদের বললেন, কমিক্স করার জন্য ঢাকা কমিক্সের জন্য। একটু সিরিয়াস ধরনের। এবং ওটাতে হাত দিতে গিয়েই টের পেলাম জেশ্চার এর প্রবলেমকে পাশ কাটিয়ে চলার মজা ! এমনিতে নর্মাল কার্টুন আঁকতে গেলে ঝামেলা হয়না। কিন্তু কমিক্সে এক পেজেই অনেক প্যানেল। শয়ে শয়ে আঁকা । মাথার ভেতর জেশ্চারের লাইব্রেরি না থাকার কারনে প্রতিটি আঁকা আঁকতে গিয়ে পারফেক্ট রেফারেন্স খুঁজতে গেলে আর আঁকা হবেনা! এরপর থেকে হতাশা ভর করল। আমি মাহাতাব আমরা না এঁকে বসে থাকলাম। অন্যান্য কাজ করে ফেলছি কিন্তু কমিক্সে হাত দিতে গেলেই আমরা জম্বি হয়ে যাই। গোল হচ্ছে কমিক আর্টিস্ট হওয়া কিন্তু কিচ্ছু হচ্ছেনা। সব মিলিয়ে গত মাস থেকে চরম হতাশা আর কনফিউশনে ছিলাম। রাগ লাগতো খুব... নিজের উপর, সিদ্ধান্তের উপর, সবকিছুর উপর।
এরপর গত দু তিন সপ্তাহ থেকে আসিফ ভাইয়ের লাইন ইন্সট্রাকশন আর মেহেদী ভাইয়ের পেলভিস-টরসো [প্র্যাকটিস টেকনিক কম্বাইন করে নিজে একটা স্টাইল ডেভেলপ করলাম জেশ্চার আঁকার। এরর অ্যান্ড ট্রায়াল পদ্ধতি মনে করে ঐ স্টাইলে পাগলের মতো প্রতিদিন ২০- ৩০-৪০ টা করে টাইমড জেশ্চার প্র্যাকটিস শুরু করলাম। পাতার পর পাতা আঁকতে গিয়ে স্কেচবুক ফেলে A4 পেপারের রিম নিয়ে এসে চারকোল পেনসিল আর লিভো কালার পেনসিল দিয়ে আঁকতে থাকলাম একের পর এক ফিগার। কিছুদিন পর টের পেলাম নাহ্‌ মনে হয় কিছু একটা হচ্ছে। চরম হতাশার দিনেও জেশ্চার আঁকা ছাড়লাম না। দিনের পর দিন আঁকতে থাকলাম। প্রতিদিন আঁকতে আঁকতে অভ্যাস হয়ে গেলো ব্যাপারটা। ইদানীং আমার ডেইলি To-Do লিস্টের প্রথমেই থাকে জেশ্চার ড্রয়িং!
মাঝে মন খারাপ থাকায় স্টুডিওতেও যাইনি বেশ কদিন। কি মিজারেবল কিছু সপ্তাহ যে পার করেছি! প্রতি রাতে ঘুমাতে গেলে শুয়ে শুয়ে ভাবতাম, ধুর বাল এইসব করবোনা আর। যাই বাপের কথা মেনে কোন ইঞ্জিনিয়ারিং জবে ঢুকে পড়ি। থ্যাংকস গড, দিনগুলির অবসান হচ্ছে আস্তেধিরে।

ইদানীং আসিফ ভাইয়ের সাথে কলাব করে ফ্রিল্যান্স কাজ শুরু করেছি। ফ্রিল্যান্স সাইট ফাইভারে দুজনে মিলে একটা কাজ করে কমপ্লিট করলাম গতরাতে। অ্যান্ড বুমমম! ওভারল ফাইভ স্টার রেটিং। এ কাজের জন্য পরশু স্টুডিওতে গিয়েছিলাম। আঁকা কিছু জেশ্চার নিয়ে গেলাম। প্রায় দুই তিনশ ফিগার। আসিফ ভাইকে দেখালাম। আসিফ ভাই দেখে বললেন আররি, জোশ হইসে তো! দারুণ ইম্প্রোভ করসো। করো করো। রিদম ঠিক আছে। এরপর কিছু কারেকশন আর হাতের রিদম দেখিয়ে দিলেন। আড্ডাইলাম, চা খেলাম এরপর চলে এলাম। গতকাল গেলাম আবার। মেহেদী ভাই ছিলেন। ছোটকাকু কমিক্সের কাজটার ব্যাপারে কথা বললাম। দেখি মনে হয় ওটা করতে পারি।
লাইফ ইজ বিয়িং সুন্দর এগেইন। মেবি... 

Monday, May 15, 2017

ঢাকা কমিক্স

গেল বছর নভেম্বর মাসের একদিন। বিকেল বেলায় গুরু মেহেদী ভাইকে কল দিলাম, ভাইয়া কোথায় আপনি? মেহেদী ভাই বললেন, স্টুডিওতে আছি। চলে আসো। হুট করে দিলাম দৌড়। হাতির ঝিল মোড়ে নেমে একে ওকে ধরে দীপিকার মোড় চিনলাম এরপর কিছুক্ষণ দিকবিদিক ঢুঁ খেয়ে অবশেষে স্টুডিওতে। আমার এমনিতেই প্লেস চেনার ব্যাপারে সুখ্যাতি(!) আছে। XD গিয়ে দেখি মেহেদী ভাই আর স্টাফ জুনায়েদ (এখন আর নেই এই বান্দা। এক মাস কাজ করেই পালিয়ে গেছে  :D ) স্টুডিও পরিষ্কার করছে। আমিও কাজে হাত দিলাম। কিছুক্ষণ পর এলো মাহাতাভ আর অ্যাড্রিয়েন। এরপর সবাই মিলে কার্পেট বসানো, সিলিং ফ্যান লাগানো ঝাড়ু দেওয়া সব শেষ করলাম। কাজ শেষে আজমির হোটেলের পুরি আর সেভেনআপ :D
সে থেকে আমাদের প্রাণের কেন্দ্র এই স্টুডিও। এমনিতে আসিফ ভাই আর মেহেদী ভাই স্টুডিওতে যান। আমি মাহাতাব অ্যাড্রিয়েন আমরা কোন কাজ পড়লেই বুঝে নিয়ে আসি বা নিজেদের কোন কাজে সমস্যা হলে গিয়ে মেহেদী ভাই বা আসিফ ভাইয়ের কাছ থেকে সল্ভ করে আসি। এমনিতেও অফ ডে আর ফ্রি থাকলে যাওয়া হয়। যাই কাজ করি, কাজ দেখি, বুঝে নেওয়ার চেষ্টা থাকে কোনকিছুতে ঝামেলা থাকলে, নতুন কোন গল্পের আইডিয়া পেলে শেয়ার করি, কমিক্স, মুভি, আঁকাআঁকি নিয়ে আড্ডা ডিসকাশন হয়, প্রফেশনাল টিপস অ্যান্ড ট্রিক্স পাই। 

মাঝে মাঝে মিতু আপু আসে রাজশাহী থেকে আসলে। উনার সাথেও বেশ আড্ডা হয়। স্টুডিওতে গেলেই কেমন যেন একটা অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। একসময় যাদের কাজ দেখে আঁকাআঁকির জগতে প্রবেশ তাদের কাছ থেকে দেখা, শেখা, আড্ডা দেওয়া। এ এক অন্যরকম অনুভূতি। মেহেদী ভাই সেদিন আমার অবস্থা শুনে অনেকক্ষণ কিভাবে কি করতে হবে বুঝিয়ে দিলেন... আমি শুনি আর জম্বির মতো হতভম্ব হয়ে বসে থাকি। এতদিন পরেও আমার এখনো বিশ্বাস হয় না, আমি মেহেদী ভাই আর আসিফ ভাইয়ের পাশে বসে আছি। স্বপ্ন স্বপ্ন মনে হয়! 
স্টুডিওতে প্রথম দিন (১৩ই নভেম্বর, ২০১৬) প্লায়ার্স হাতে অ্যাড্রিয়েন তৈরি। সিলিং ফ্যান লাগাতে হবে :D 
দুই কারিগর মাহাতাব আর অ্যাড্রিয়েন
সব শেষে পুরিভক্ষণ

আসিফ ভাইয়ের সাথে

কোন একদিন আড্ডার ফাঁকে
মিতু আপু