Monday, May 15, 2017

ঢাকা কমিক্স

গেল বছর নভেম্বর মাসের একদিন। বিকেল বেলায় গুরু মেহেদী ভাইকে কল দিলাম, ভাইয়া কোথায় আপনি? মেহেদী ভাই বললেন, স্টুডিওতে আছি। চলে আসো। হুট করে দিলাম দৌড়। হাতির ঝিল মোড়ে নেমে একে ওকে ধরে দীপিকার মোড় চিনলাম এরপর কিছুক্ষণ দিকবিদিক ঢুঁ খেয়ে অবশেষে স্টুডিওতে। আমার এমনিতেই প্লেস চেনার ব্যাপারে সুখ্যাতি(!) আছে। XD গিয়ে দেখি মেহেদী ভাই আর স্টাফ জুনায়েদ (এখন আর নেই এই বান্দা। এক মাস কাজ করেই পালিয়ে গেছে  :D ) স্টুডিও পরিষ্কার করছে। আমিও কাজে হাত দিলাম। কিছুক্ষণ পর এলো মাহাতাভ আর অ্যাড্রিয়েন। এরপর সবাই মিলে কার্পেট বসানো, সিলিং ফ্যান লাগানো ঝাড়ু দেওয়া সব শেষ করলাম। কাজ শেষে আজমির হোটেলের পুরি আর সেভেনআপ :D
সে থেকে আমাদের প্রাণের কেন্দ্র এই স্টুডিও। এমনিতে আসিফ ভাই আর মেহেদী ভাই স্টুডিওতে যান। আমি মাহাতাব অ্যাড্রিয়েন আমরা কোন কাজ পড়লেই বুঝে নিয়ে আসি বা নিজেদের কোন কাজে সমস্যা হলে গিয়ে মেহেদী ভাই বা আসিফ ভাইয়ের কাছ থেকে সল্ভ করে আসি। এমনিতেও অফ ডে আর ফ্রি থাকলে যাওয়া হয়। যাই কাজ করি, কাজ দেখি, বুঝে নেওয়ার চেষ্টা থাকে কোনকিছুতে ঝামেলা থাকলে, নতুন কোন গল্পের আইডিয়া পেলে শেয়ার করি, কমিক্স, মুভি, আঁকাআঁকি নিয়ে আড্ডা ডিসকাশন হয়, প্রফেশনাল টিপস অ্যান্ড ট্রিক্স পাই। 

মাঝে মাঝে মিতু আপু আসে রাজশাহী থেকে আসলে। উনার সাথেও বেশ আড্ডা হয়। স্টুডিওতে গেলেই কেমন যেন একটা অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। একসময় যাদের কাজ দেখে আঁকাআঁকির জগতে প্রবেশ তাদের কাছ থেকে দেখা, শেখা, আড্ডা দেওয়া। এ এক অন্যরকম অনুভূতি। মেহেদী ভাই সেদিন আমার অবস্থা শুনে অনেকক্ষণ কিভাবে কি করতে হবে বুঝিয়ে দিলেন... আমি শুনি আর জম্বির মতো হতভম্ব হয়ে বসে থাকি। এতদিন পরেও আমার এখনো বিশ্বাস হয় না, আমি মেহেদী ভাই আর আসিফ ভাইয়ের পাশে বসে আছি। স্বপ্ন স্বপ্ন মনে হয়! 
স্টুডিওতে প্রথম দিন (১৩ই নভেম্বর, ২০১৬) প্লায়ার্স হাতে অ্যাড্রিয়েন তৈরি। সিলিং ফ্যান লাগাতে হবে :D 
দুই কারিগর মাহাতাব আর অ্যাড্রিয়েন
সব শেষে পুরিভক্ষণ

আসিফ ভাইয়ের সাথে

কোন একদিন আড্ডার ফাঁকে
মিতু আপু

No comments:

Post a Comment